Alexa ফের বাড়ছে সবজির দাম, ঝাঁজ কমেছে পেঁয়াজের

ফের বাড়ছে সবজির দাম, ঝাঁজ কমেছে পেঁয়াজের

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫০ ২৮ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৬:৫১ ২৮ জুন ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বেড়েই চলেছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। তবে কমেছে পেয়াজের ঝাঁজ। খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ৫ টাকা। এদিকে, পেঁয়াজের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গরু, খাসি, ডিম ও মুদিপণ্যের দাম। 

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা,কচুক্ষেত বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, শসার দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর। দেশি পাকা টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও আমদানি করা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ঢেঁড়সের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। তবে বেড়ে গেছে ঝিঙ্গার দাম। প্রতি কেজি ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। ৩০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

এছাড়া করলা, কাকরোল, পটল, উস্তা, বেগুনের দামও বাড়তির দিকে। গত সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া উস্তা বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে পটল। 

বাজারের মানভেদে পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বেগুনের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবার বাজারে সবসময় সবজির দাম বেশি থাকে। তবে ঈদের পর সবজির দাম কম থাকলেও গত সপ্তাহ থেকে সবজির দাম বাড়তি। কারণ বর্ষার মৌসুম শুরু হয়েছে। 

‌‘অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। আর বর্ষার মৌসুমে সবজির উৎপাদনও কম হয়। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যায়। আর সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়াটা স্বাভাবিক। এখন বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।’

অন্যদিকে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা এক পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম পাল্লায় কমেছে ১৫ টাকা। এ হিসেবে কেজিতে পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে কমেছে ৩ টাকা।

পাইকারি বাজারের মতো খুচরা বাজারেও সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে যেসব বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৩৫ টাকা বিক্রি হয়, ওই বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। অর্থাৎ খুচরা বাজারে কেজিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫ টাকা।

পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার মিয়া বলেন, এবার পেঁয়াজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। যে কারণে অন্যবারের তুলনায় পেঁয়াজের দাম বাড়েনি। তাছাড়া কোথাও কোথাও মজুদ করা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে, যে কারণে এসব পেঁয়াজ বাজারে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। তাই বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। তাই দামও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

এ বাজারের আরেক ব্যবসায়ী রহমান বলেন, রোজার ঈদের পর পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছিল। এতে আমাদের ধারণা ছিল সামনে পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে। কিন্তু দাম না বেড়ে উল্টো দাম কমেছে। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ গত সপ্তাহে যে দামে বিক্রি করেছি, এখন তার থেকে ১৫ টাকা কমে পাল্লা বিক্রি করছি।

এদিকে রামপুরা অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৩০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ টাকা। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা।

রামপুরার ব্যবসায়ী মোমিন বলেন, অপ্রত্যাশিতভাবে পেঁয়াজের দাম কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ৫ টাকা। এখন পেঁয়াজের দাম কমবে এটা আমাদের ধারণাতে ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে

Best Electronics
Best Electronics