যে ওসির রুমে ঢুকতে লাগে না অনুমতি, বলতে হয় না স্যার

যে ওসির রুমে ঢুকতে লাগে না অনুমতি, বলতে হয় না স্যার

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪০ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৬ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিন আগে সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান, পিপিএম। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর এক যৌনকর্মীর জানাজা-দাফন ও কুলখানি করে বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনায় আসেন তিনি। এবার তিনি নিজ কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যানার টানিয়ে ফের আলোচনায় এসেছেন।

মুজিববর্ষে পুলিশের স্লোগান ছিল, 'মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার'। আশিকুর রহমান যেন বিষয়টিকে বাস্তবে পরিণত করলেন। 

গোয়ালন্দঘাট থানার ফেসবুক আইডিতে নিজের অফিস কক্ষের দরজার সামনে টাঙানো একটি ব্যানারের ছবি পোস্ট করেন ওসি আশিকুর। যাতে লেখা রয়েছে, 'মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার। ইহা একজন গণকর্মচারীর অফিস। যে কোনো প্রয়োজনে এ অফিসে ঢুকতে অনুমতির প্রয়োজন নেই। সরাসরি রুমে ঢুকুন। ওসি’কে স্যার বলার দরকার নাই।'

এ বিষয়ে ওসি আশিকুর বলেন, 'আমি তো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমি তো বলব এটাই হওয়া উচিত। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়। সুতরাং, জনগনকে সেবা করাই আমাদের কাজ।'

এদিকে আশিকুর রহমানের পোস্ট করা সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। আজকের যুগে পুলিশের প্রতি মানুষের যে বিরূপ মনোভাব রয়েছে, তা আশিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তাদের জন্য অনেকটাই দূর হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।  

জানা যায়, ওসি আশিকুর রহমান গত ১১ জানুয়ারি যোগদান করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানায়। তারপর থেকেই নিতে থাকেন ভিন্নধর্মী সেবামূলক উদ্যোগ। গত ২ ফেব্রুয়ারি দৌলতদিয়া পতীতাপল্লীর বয়স্ক এক যৌনকর্মী মারা গেলে তার জানাজা নামাজ পড়িয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন তিনি। এই উদ্যোগের কারণে এরইমধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দৌলতদিয়া পতীতাপল্লীর অসহায় নারীদের নানাবিধ অভিযোগ ও আইনী সহায়তা প্রদানে সেখানে গড়ে তুলেছেন ‘জনগণের দরবার’ নামে একটি আইনি সহায়তা কেন্দ্র। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেখানে গিয়ে অসহায় নারীদের দিচ্ছেন আইনি সহায়তা। ওসির এই কর্মকাণ্ডে অনেক খুশি দৌলতদিয়ার যৌনকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এমন উদার মনমানসিকতা সম্পন্ন একজন ওসি পেয়ে সাধারণ মানুষের সেবায় আরও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন থানার অনান্য পুলিশ সদস্যরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ/টিআরএইচ