Alexa ফেরেশতার আহ্বানে সাড়া দাও হে মুমিন!

ফেরেশতার আহ্বানে সাড়া দাও হে মুমিন!

শহীদুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৫৮ ২৩ মে ২০১৯   আপডেট: ১২:০০ ২৩ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হাদীসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সুনানে তিরমিজী ও নাসায়ীতে বর্ণিত আছে যে, রমজানে আকাশের এক দল ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকে, হে কল্যাণের পথে পরিচালিত বান্দারা! তোমরা আরো অগ্রসর হও। হে অসৎ পথের লোকেরা! তোমরা ওই পথ থেকে ফিরে এসো। 

রমজানে বহু গোনাহগারকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়া হয়। এবং গোনাহের পথ থেকে ফিরে আসা, নেকের পথে ধাবিত হওয়ার ঘোষণা রমজানের প্রতি রাতেই হতে থাকে। উক্ত হাদীসের শুরুতে বলা হয়েছে, রমজান আসার সঙ্গে সঙ্গে, অবাধ্য শয়তানকে আটক করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্দ থাকে। জান্নাতের দরজাগুলোকে খুলে দেয়া হয়। এই অবস্থা বিরাজ করতে থাকে রমজান শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত।

ফেরেশতাদের এ ঘোষণা, কানে না শুনলেও এর বিভিন্ন আলামত আমরা দেখতে পাই। যেমন রমজানে নেক বান্দাদের ইবাদত, তেলাওয়াত ও জিকির আজকারের পরিমাণ বেড়ে যায়। যা দ্বারা প্রতীয়মাণ হয়, ফেরেশতার আহ্বানে প্রভাবিত হয়েই তারা এগুলোকে বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার সাধারণ গোনাহগারেরা তুলনামূলক গোনাহের কাজ কম করে, যা দ্বারা বুঝা যায় ওই ডাকের কারণেই তারা বিরত থাকছে। যদিও ফেরেশতার ঘোষণার সংযোগ মানুষ পর্যন্ত নেই। কিন্তু আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে সংযোগ অবশ্যই আছে।

রমজানে জাহান্নামের দরজা বন্ধ, জান্নাতের দরজা খোলা থাকা ও শয়তানকে আটক করার অর্থ নিয়ে অনেক মত পাওয়া যায়। কোনো কোনো আলেম বলেন, এর দ্বারা বাহ্যিক অর্থই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে আর জান্নাতের দরজা খোলা থাকে। এবং শয়তানকে আটক করা হয়। কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, রমজানে ওলি আউলিয়াদের ইবাদত, জিকির, তেলাওয়াত, তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য ইবাদত বেড়ে যায়। তাদের দ্বীনদারী দেখে অন্যরাও দ্বীনের পথে পরিচালিত হয়। গোনাহের পথ থেকে ফিরে আসে। আর এর ফলাফল হচ্ছে, বান্দাদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে যাওয়া ও জাহান্নামের দরজা বন্দ হয়ে যাওয়া। আর দ্বীনের পথে ধাবিত হওয়ার কারণে শয়তানের প্ররোচনা তাদের মাঝে কাজ করে কম। সে হিসেবে বলা হয়েছে, শয়তানকে বন্দী করা হয়। মূলত শয়তান বন্দী হয় না। এই ব্যাখ্যা, অনুযায়ী রমজানের রহমত বরকত তাদের জন্য যারা রমজানে নিজেদেরকে গুনাহের রাস্তা থেকে সরিয়ে এনে দ্বীনের পথে পরিচালিত করেছে। আর যারা কাফের, দ্বীন বিমুখ, রমজান আসে রমজান যায় কিন্তু তাদের মাঝে কোনো পরিবর্তন নেই, তাদের জন্য রমজানের এই ফযিলত নয়। অতএব তাদের জন্য শয়তানও বন্দী নয় এবং জান্নাত খোলা বা জাহান্নাম বন্দীর কোনো বিষয়ই নেই। ওদের জন্য সব সমান।

এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত নবী করীম (সা.) মিম্বারে ওঠছেন আর বলছেন আমীন, আমীন ছুম্মা আমীন। সাহাবায়ে কেরাম আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কিসে আমীন বললেন। তিনি বলেন, এই মাত্র হজরত জিবরাইল (আ.) তিনটি দোয়া করেছেন আর আমি এর সঙ্গে আমীন বলেছি। তিনটি দোয়ার একটি হচ্ছে, যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারে নাই সে ধ্বংস হোক, আমি বলেছি আমীন; আল্লাহ আপনার এই দোয়া কবুল করুন। পবিত্র মাহে রমজানের মাঝামাঝিতে আমরা এখন আছি। আমাদের নিজেদের হিসাব নেয়া দরকার। কতটুকু টার্গেট ছিলো এখন কতটুকু হাসিল হয়েছে। তাহলে বাকী দিনগুলোতে আমাদের টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics
Best Electronics