Alexa ফেনী পাক হানাদার মুক্ত দিবস আজ

ফেনী পাক হানাদার মুক্ত দিবস আজ

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:০৫ ৬ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ৬ ডিসেম্বর। ফেনী পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ফেনীর মাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ান। 

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য পতাকা র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন করেছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও জেলা প্রশাসন। 

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর বাহিনীকে পরাজিত করে ফেনী শহরে স্বাধীনতাকামী বাঙালিরা বিজয়ের নিশান উড়িয়ে উল্লাস করে। সেই সময় স্বজনহারা ব্যক্তিরা কান্না ভুলে বিজয় মিছিলে  যোগ দেন। 

জেলার বিভিন্ন স্থানে আটটি বধ্যভূমিতে শহীদদের মরদেহ শনাক্ত করতে বা তাদের কবর চিহ্নিত করতে ছুটে বেড়ান স্বজন হারানো লোকেরা। 

মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ফেনী অঞ্চলের মুক্তিবাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তৎকালীন ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের (পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত) নেতৃত্বে ভারতের বিলোনীয়া ও তার আশপাশের অঞ্চল থেকে ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অভিযানে বিলোনিয়া, পরশুরাম, মুন্সিরহাট, ফুলগাজী, যুদ্ধ করতে করতে এগোতে থাকে। এতে ফেনীর পাক হানাদার বাহিনীর একটি অংশ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী হয়ে কুমিল্লা সেনানিবাসের সড়কের অপর অংশ শুভপুর সেতুর উপর দিয়ে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।

অপরদিকে মুজিব বাহিনীর ফেনী মহাকুমা কমান্ডার অধ্যাপক জয়নাল আবদীনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা দাগনভূঞা, রাজাপুর, সিন্দুরপুর হয়ে শহরের দিকে এগোতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল আক্রমণে দিশেহারা পাক হানাদাররা ৬ ডিসেম্বর রাতে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে পায়। সেই সময় ফেনী মহাকুমার অবাঙালি প্রশাসক বেলাল এ.খান পাকবাহিনীর সঙ্গে চলে যায়।

ফেনী হানাদারমুক্ত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে হানাদার বাহিনীর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সূর্য উদিত হওয়ার বিষয়টি সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

মুক্তিযুদ্ধে ফেনীর অনেকগুলো রণাঙ্গনের মধ্যে মুন্সীর হাটের মুক্তারবাড়ী ও বন্ধুয়ার প্রতিরোধের যুদ্ধ ইতিহাস খ্যাত হয়ে রয়েছে। এ রণাঙ্গনে সম্মুখ যুদ্ধ কৌশল বাংলাদেশ, ভারত, ও পাকিস্তানি মিলিটারি একাডেমিগুলোতে পাঠসূচির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা এ রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের অহংকার আর গর্বের বিষয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ফেনী সরকারি কলেজ, তৎকালীন সিও অফিসসহ কয়েকটি স্থানে স্বাধীনতাকামী নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। সে আমর শহীদদের স্মৃতির ভাস্কর হিসেবে ফেনী কলেজ মাঠে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও জেল রোডের পাশে বীর শহীদদের নামের তালিকাসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও বিলোনীয়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ