ফেনীর মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ১৩ গ্রাম প্লাবিত

ফেনীর মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ১৩ গ্রাম প্লাবিত

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:২২ ১৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২২:১১ ২১ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফেনীর মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফাটল দেখা দেয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আরো বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

দুই দিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, পুকুর প্লাবিত হয়েছে। একদিকে করোনার প্রাদুর্ভাব, অন্য দিকে প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন ১৩টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

সোমবার সকালে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১.৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন।

ফেনীর ১৩ গ্রাম প্লাবিত

ফুলগাজী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে মুহুরী নদীর ফুলগাজী সদর অংশের উত্তর দৌলতপুরের তিনটি স্থানে ও কিসমত ঘনিয়া মোড়া গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে ইউপির ঘনিয়া মোড়া, কিসমত ঘনিয়া মোড়া, পূর্ব ঘনিয়া মোড়া, উত্তর দৌলতপুর, বৈরাগপুর, সাহাপাড়া, উত্তর বরইয়াসহ অন্তত সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। 

এছাড়া ফুলগাজী বাজারের পশ্চিম অংশে শ্রীপুর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ফুলগাজী উপজেলা সদরের মূল সড়কও তলিয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ৫ শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ফেনীর ১৩ গ্রাম প্লাবিত

পরশুরামের চিথলিয়া ইউপির দুটি অংশে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই স্থানে ভেঙে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। 

তিনি জানান, রোববার রাতে ইউপির দূর্গাপুরের কালাম মেম্বারের বাড়ির পাশে ও দক্ষিণ শালধর জহির চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুইটি অংশ ভেঙে দুর্গাপুর, রতনপুর, রামপুর, দক্ষিণ শালধর, মালিপাথর ও পাগলীরকুল গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। 

সকালের মধ্যেই ইউপির উত্তর ধনীকুন্ডা, মধ্যম ধনীকুন্ডা, রাজষপুর উত্তর শালধর, নোয়াপুরসহ আরো কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

ফেনীর ১৩ গ্রাম প্লাবিত

দীর্ঘদিন ধরে চিড়া আর মুড়ির বদলে টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দাবি জানিয়ে আসছেন দুই উপজেলার স্থানীয়রা। প্রতি বছরই পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বৃষ্টি হলেই ভেসে যায় কোটি টাকায় নির্মিত মুহুরী-কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বাঁধ। 

এসব বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। প্রতি বছর এমন হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ সীমাহীন।

ফেনীর ১৩ গ্রাম প্লাবিত

পরশুরামের শালধর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আবুল কাশেম মোল্লা নুরুন নবী ও আবদুল মোমিন জানান, বন্যায় পানিবন্দী হলে অনেকে চিড়া-মুড়ি নিয়ে আসে। কেউ টেকসই বাঁধ নির্মাণ করে স্থায়ী সমাধানের কথা বলে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/