ফেনীতে বাবার পাশবিক নিযার্তনের শিকার পালিত মেয়ে!

ফেনীতে বাবার পাশবিক নিযার্তনের শিকার পালিত মেয়ে!

ফেনী প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৭ ২ জুলাই ২০২০  

অভিযুক্ত কিশোরীর বাবা মাহমুদুল হক বাচ্চু আটক

অভিযুক্ত কিশোরীর বাবা মাহমুদুল হক বাচ্চু আটক

ফেনীর দাগনভূঞায় দত্তক নেয়া কিশোরী মেয়েকে দিনের পর দিন পাশবিক নিযার্তনের অভিযোগ উঠেছে পালক বাবার বিরুদ্ধে। এমন পাশবিকতার শিকার ওই মেয়েটি এখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানায় র‌্যাব। 

বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত বাবা মাহমুদুল হক বাচ্চুকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. নুরুজ্জামান। 

আইনী প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে দাগনভূঞা থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বুধবার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউপির উত্তর গজারিয়া গ্রামে এ পাশবিক ঘটনা ঘটে।

ওই গ্রামের ওবায়দুল হকের ছেলে মাহমুদুল হক বাচ্চু বিয়ের কয়েক বছর পরও নিজের কোনো সন্তান না হওয়ায় স্ত্রী খোতেজা বেগমের অনুরোধে গত নয় বছর আগে পাঁচ বছর বয়সী মেয়েটিকে দত্তক নেন। 

এরপর মায়া মমতা দিয়ে নিজের সন্তানের মত শিশুটিকে পালন পালন করতে থাকে তারা। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকা কিশোরী মেয়েটির জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। 

এতদিন যাকে সে বাবা হিসেবে জানতো সে লোকটিই দিনের পর দিন তার ওপর জোরপূর্বক ঝাঁপিয়ে পড়ে রাতের আধাঁরে। লোক লজ্জার ভয়ে অসহায় মেয়েটি পাষণ্ড পালক বাবার অমানবিক নির্যাতনের কথা কাউকে কিছু বলতে না পেরে এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। 

জুনের প্রথম দিকে মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন মেয়েটির পালক মা ও খালা। এরপর তারা গত ২৩ জুন মেয়েটিকে গোপনে দাগনভূঞা উপজেলার ইউনিক হাসপাতালে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা করালে কিশোরী মেয়েটি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানতে পারেন তারা। 

হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে এ নিয়ে বাক বিতণ্ডা করে বাবার বাড়ি চলে যায় বাচ্চুর স্ত্রী খোতেজা। এরপরও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় ঘটনার মূলহোতা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেন এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যার ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রায়হান। সেখানে গিয়ে তিনি বাচ্চুর স্ত্রী ও মেয়েটিকে সামনে হাজির করে বিষয়টির সত্যতা জানতে পারেন।

দাগনভূঞা ইউনিক হাসপাতালের পরিচালক নাছির উদ্দিন আজাদ মেয়েটির আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আল্ট্রাসনোগ্রাফির সময় মেয়েটির বয়স ১৪ বছর হলেও ১৮ বছর লেখায় তার সঙ্গে আসা স্বজনরা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রায়হান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাষণ্ড বাবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে