Alexa ফিরে দেখা: আবদুল আলীম

ফিরে দেখা: আবদুল আলীম

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৮ ২৭ জুলাই ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পী আবদুল আলীম ১৯৩১ সালের আজকের এই দিনে (২৭ জুলাই) ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

আবদুল আলীমের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বেশি দূর অগ্রসর হয় নি। পাঠশালায় পড়ার সময় গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনে সঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্ট হন, পরে স্থানীয় ওস্তাদ সৈয়দ গোলাম আলীর নিকট সঙ্গীতে তালিম নেন। 

শৈশবেই সভা-সমিতিতে গান গেয়ে আবদুল আলীম সুনাম অর্জন করেন। পরে কলকাতা গিয়ে  আব্বাসউদ্দীন আহমদ ও কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তিনি পরিচিত হন। ১৯৪৩ সালে মেগাফোন কোম্পানিতে ওতোর মোস্তফাকে দে না মাগোহ এবং  ও আফতাব ওই বসলো পাটেহ গান দুটি রেকর্ডের মধ্য দিয়ে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন।

দেশভাগের পর আবদুল আলীম ঢাকা এসে বেতার-শিল্পীর মর্যাদা লাভ করেন। এখানে  বেদারউদ্দীন আহমদ, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, মমতাজ আলী খান, আব্দুল লতিফ,  কানাইলাল শীল, আব্দুল হালিম চৌধুরী প্রমুখের নিকট তিনি লোকসঙ্গীত ও উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ঢাকার সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় লোকগীতি বিভাগে তিনি কিছুদিন অধ্যাপনাও করেন। 

বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ইত্যাদি মাধ্যমে গান গেয়ে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। কলকাতা, বার্মা, চীন ও প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করে তিনি বিদেশীদের নিকট বাংলা লোকসঙ্গীতের পরিচয় তুলে ধরেন।

আবদুল আলীম মারফতি-মুর্শিদি গানে ছিলেন অদ্বিতীয়। তাঁর দরদভরা কণ্ঠে মরমিধারার এ গান অতি চমৎকারভাবে ফুটে উঠত। তাঁর গাওয়া ও হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ, পাখিটি ছাড়িল কে? গানটি খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।

এছাড়াও তাঁর কিছু অবিস্মরণীয় গান হলো নাইয়া রে নায়ের বাদাম তুইলো, সর্বনাশা পদ্মা নদী, মেঘনার কূলে ঘর বাঁধিলাম, এই যে দুনিয়া, দোল দোল দুলনি, দুয়ারে আইসাছে পালকি, কেন বা তারে সঁপে দিলাম দেহ মন প্রাণ, মনে বড় আশা ছিল যাবো মদীনায়, বন্ধুর বাড়ি মধুপুর  ইত্যাদি।

সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার একুশে পদক (মরণোত্তর, ১৯৭৭), পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার লাভ করেন।

তিনি ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ