Alexa ফিরে দেখা: অন্নদাশঙ্কর রায়

ফিরে দেখা: অন্নদাশঙ্কর রায়

আরিফুল ইসলাম আরিফ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১৮ ১৫ মে ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রখ্যাত বাঙালি ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি এবং চিন্তাবিদ অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯০৫ সালের আজকের এই দিনে (১৫ মে) পশ্চিমবঙ্গের উড়িষ্যা রাজ্যের ঢেঙ্কানালের এক শাক্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নিমাইচরণ রায় ও মা হেমনলিনী।

অন্নদাশঙ্করের শিক্ষাজীবন আরম্ভ হয় ঢেঙ্কানালের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯২১ সালে ঢেঙ্কানাল হাইস্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাস করেন এবং ভর্তি হন তৎকালীন পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কটক র‌্যাভেন্শ কলেজে।

১৯২৩ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএ পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯২৫ সালে তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ বিএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। এমএ (ইংরেজিতে) শ্রেণিতে পড়াকালীন ১৯২৭ সালে অন্নদাশঙ্কর রায় আই.সি.এস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে প্রশিক্ষণের জন্য ইংল্যান্ড যান।

দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রায় সত্তর বছর ধরে তিনি প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, ছড়া, কবিতা, নাটক, পত্রসাহিত্য, আত্মজীবনীমূলক রচনা প্রভৃতি লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। তার রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২২টি। এর মধ্যে প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস আগুন নিয়ে খেলা (১৯৩০)।

আমেরিকার টেক্সাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওর্নডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য। লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তারা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। সে সময় অন্নদাশঙ্কর ‘লীলাময় রায়’ ছদ্মনামে লিখতেন। রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন ‘লীলা রায়’। অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক।

অন্নদাশঙ্কর রায় সাহিত্য একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ফেলো ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমীর জন্মকাল ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি ছিলেন এর আজীবন সভাপতি ও পথিকৃৎ। সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে জগত্তারিণী পুরস্কারে ভূষিত করে ১৯৭৯ সালে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে প্রদান করে দেশিকোত্তম সম্মান। বর্ধমান, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে।

২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ

Best Electronics
Best Electronics