Alexa ফিফা বস, কে এই ইনফান্তিনো? 

ফিফা বস, কে এই ইনফান্তিনো? 

আসাদুজ্জামান লিটন  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫৭ ১৬ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে ‘ফেডারেশন ইন্টারন্যাসিওনাল দ্য ফুটবল এসোসিয়েশন’। সংক্ষেপে ফিফা হিসেবে পরিচিত এই সংস্থার কর্তৃত্ব শুধু ফুটবল নয়, আরো অনেক কিছুর উপরেই রয়েছে। 

বর্তমানে ফিফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিভাবে এ পর্যায়ে উঠে এলেন তিনি? কেমন তার পারিবারিক জীবন? এসব নিয়েই ডেইলি বাংলাদেশ পাঠকদের জন্য আজকের আয়োজন। 

জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জিওভান্নি ইনফান্তিনো নামেও ডাকা হয়। ১৯৭০ সালের ২৩ মার্চ সুইজারল্যান্ডের ব্রাগ শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও তার বাবা-মা দুজনেই ইতালিয়ান। পারিবারিক প্রথা অনুসারে তার নাম রাখা হয় ‘দিও’ভান্নি ভিনতিয়েনসো ইমফানতিনো’ (ইতালিয়ান উচ্চারণ)। 

ছোট থেকেই বেশ মেধাবী ছিলেন ইনফান্তিনো। মোটামুটি ছয়টি ভাষায় কথা বলতে পারেন তিনি। এর মধ্যে ইতালিয়ান, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, স্প্যানিশ ও আরবী। এছাড়া পর্তুগীজ ভাষার উপরেও তার দক্ষতা আছে। আইনের ছাত্র হিসেবে ইনফান্তিনো তার গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রাইবুর্গ থেকে। এরপর ইউনিভার্সিটি অফ নিউখাটল-এ ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস স্টাডিজ’ বিভাগের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন বর্তমান ফিফা প্রেসিডেন্ট। 

২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেন ইনফান্তিনো। চার বছরের মাঝে পদোন্নতি পেয়ে উয়েফার ‘লিগ্যাল অ্যাফেয়ার ও ক্লাব লাইসেন্স’ বিভাগের পরিচালক নিযুক্ত হন তিনি। ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রধান সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেলের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাত্র দুই বছর পরেই সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে উয়েফার দায়িত্ব গ্রহণ করেন বর্তমান ফিফা বস। 

তার অধীনে উয়েফার অন্তর্গত ছোট দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন হয়। ইনফান্তিনোর সুষম আর্থিক বন্টন নীতির কারণেই মূলত সম্ভব হয় এটি। একইসঙ্গে এসব ছোট দেশগুলোর কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। 

উয়েফা ইউরো টুর্নামেন্টে দল বৃদ্ধির পেছনেও কাজ করেন ইনফান্তিনো। ইউরো ২০১৬ এর মূল পর্বে ২৪টি দেশ অংশগ্রহণ করে। যার সার্থক কারিগর ছিলেন তিনি। এছাড়া ম্যাড়ম্যাড়ে প্রীতি ম্যাচগুলোয় উত্তেজনা ফেরাতে উয়েফা নেশনস লিগের উদ্ভাবন করেন ইনফা। তার নির্দেশনা অনুসারে ২০২০ সালের ইউরো টুর্নামেন্ট ১৩টি দেশ মিলে অনুষ্ঠিত হবে। 

ইনফান্তিনো ২০১৫ সালের অক্টোবরে ফিফার সংশোধিত কমিটির সদস্য হিসেবে যোগ দেন। উয়েফা এক্সিকিউটিভ কমিটির সমর্থন নিয়ে ২০১৬ সালে ‘ফিফা এক্সট্রাঅর্ডিনারী কংগ্রেস’ সভায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাঁড়ান। একইদিন নিজের প্রার্থীতা নিশ্চিত করে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তখনই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ফিফা বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৪০-এ উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি।

পরবর্তী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ফিফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সুইজারল্যান্ড ও ইতালির দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে ফিফার প্রেসিডেন্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।  

শুরু থেকেই অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলেছেন ইনফান্তিনো। ২০১৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকায় মুসলিমদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে সরাসরি প্রতিবাদ করেন তিনি। এমন কিছু করলে আমেরিকাকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবেনা বলেও সাফ জানিয়ে দেন ফিফা সভাপতি। 

এছাড়া মেয়েদের অধিকার অর্জনেও কাজ করে যাচ্ছেন দ্যা বস। ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানে নারীদের স্টেডিয়ামে খেলা দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তার প্রচেষ্টা ও হুঁশিয়ারির ফলে ৪০ বছর পর কিছুদিন আগে ইরানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর ইরানের আজাদী স্টেডিয়ামে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারী একসঙ্গে ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেন। এটি প্রকারান্তরে ইনফান্তিনোর সাফল্যই বলা চলে।  

ব্যাক্তিগত জীবনে চার সন্তানের জনক ফিফা সভাপতি। তার সহধর্মিনীর নাম লেবানেজ লিনা আল আশকার। তার চার সন্তানের নাম যথাক্রমে অ্যালেসিয়া, সাবরিনা, শ্যানিয়া সেরেনা ও ঢালিয়া নোরা। ইতালিয়ান সিরি-আ ক্লাব ইন্টার মিলানের একনিষ্ঠ ভক্ত তিনি। 

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ফুটবলের উন্নতিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। যোগ্য সংগঠকের মতোই আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন সর্বত্র। এমন কাউকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাওয়া যেনো ফিফার জন্য গর্বের। 


 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি