‘প্লাস্টিক ফুল আমদানি বন্ধ করতে হবে’

‘প্লাস্টিক ফুল আমদানি বন্ধ করতে হবে’

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১১ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

বাংলাদেশে প্লাস্টিক ফুল আমদানিতে হুমকির মুখে পড়েছে ফুল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। এ পরিস্থিতিতে ফুলের বাজার সম্প্রসারণের পরিবর্তে হয়ে পড়েছে স্থবির। এতে ফুল চাষ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ৩০ লাখের অধিক মানুষের জীবিকা সংশয়ের মুখে পড়েছে।

রোববার যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেছে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তারা প্লাস্টিক ফুল আমদানি বন্ধের দাবি জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, বর্তমানে দেশের ২৫টি জেলায় ২০ হাজার কৃষক ছয় হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ করছে। দেশে দেড় হাজার কোটি টাকার ফুলের বাজার রয়েছে। ফুল চাষ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে ত্রিশ লাখের বেশি মানুষের জীবিকা জড়িত। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফুলের বাজার সম্প্রসারণ হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে ২০১৬ সাল থেকে দেশীয় ফুলের বাজার সম্প্রসারণের পরিবর্তে স্থবির হয়ে পড়েছে। কারণ হিসেবে আমরা চিহ্নিত করেছি প্লাস্টিক ফুল আমদানি। কিছু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বিদেশি ফুল আমদানি করে দেশীয় কাঁচা ফুলের সেক্টর ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সারাদেশে ফুলের চাহিদার ৭০ শতাংশ যোগান দেয় বৃহত্তর যশোর জেলার চাষিরা। ফুলের রাজধানী হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে যশোরের গদখালি। এখনকার চাষিদের দাবি প্লাস্টিক ফুল আমদানির কারণে দেশীয় ফুলের বাজার সম্প্রসারণ হচ্ছে না। ২০১৭ সাল থেকে দেশের ফুল চাষিরা প্লাস্টিক ফুলের আমদানি বন্ধের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে।

আবদুর রহিম বলেন, প্লাস্টিক ফুল আমদানি ও ব্যবহার বন্ধের দাবিতে কয়েক বছর ধরে আমরা কর্মসূচি ও সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার ও বেসরকারি দাতা সংস্থাগুলো ফুল সেক্টর উন্নয়নের জন্য শত কোটি টাকা বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় প্লাস্টিক ফুল আমদানি ও ব্যবহার বন্ধ না হলে ফুল বিদেশে রফতানির সুযোগ ব্যাহত হবে।

পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি বলেন, দ্রুত প্লাস্টিকের ফুল আমদানিকারকদের চিহ্নিত করে বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। প্লাস্টিক ফুল ব্যবহারের ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরে সরকারিভাবে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি তালিকায় প্লাস্টিক ফুলের উপর ৫শ শতাংশ ভ্যাট বা ট্র্যাক্স আরোপ করতে হবে। সরকারি সব অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক ফুল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানে ফুল ব্যবহার করা হয় তাদেরকে কাঁচা ফুল ক্রয়ের নির্দেশনা দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির নির্বাহী সদস্য মীর বারজান বরুন, গদখালি ফুল চাষি কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও তরিকুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জামির হোসেন প্রমুখ। 


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর