প্লাজমা দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিতেন টাকা

প্লাজমা দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিতেন টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৩ ৪ জুলাই ২০২০  

সংগৃহীত

সংগৃহীত

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামের তরুণ শরীফ খান বাবু। ফেসবুকে বা টিভি ক্রলে মুমূর্ষু করোনা রোগীর জন্য 'প্লাজমা চাই' বিজ্ঞাপন দেখেই দাতা সেজে এগিয়ে আসে। নিজেই ফোন দেন রোগীর স্বজনকে। শুধু কি তাই! ফেসবুকে নিজেই ভিন্ন ভিন্ন ছয়টি মোবাইল নম্বর দিয়ে নিজেকে করোনা সেরে ওঠা ব্যক্তি বলে পরিচয় দেয়, আগ্রহ দেখায় মৃত্যুপথযাত্রী করোনা রোগীকে প্লাজমা দেয়ার। এভাবেই প্লাজমা দাতা সেজে করোনা রোগীর পকেট কেটে নেয় হাজার হাজার টাকা। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে বন্ধ করে দেয় নিজের মোবাইল ফোন।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে প্লাজমা নিয়ে তার মহাপ্রতারণার কাহিনি। এ পর্যন্ত তিনজনের কাছ থেকে প্লাজমা দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন বাবু। শুক্রবার তাকে আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ‌‌‌‍‘প্লাজমা ব্যাংক অব বাংলাদেশ (কোভিড-১৯)’ নামে ফেসবুকে একটি গ্রুপ আছে। গ্রুপটির সদস্যসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। করোনায় আক্রান্ত কোনো রোগীর প্লাজমার প্রয়োজন হলে তার স্বজনেরা এই গ্রুপে রক্তের গ্রুপ লিখে সহযোগিতা চান। সঙ্গে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরও দিয়ে দেন। প্রতারকেরা তখন এসব মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করেন।

ডিবির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার মুজিব আহম্মদ পাটওয়ারী বলেন, শরীফ খান বাবু মহাপ্রতারক। বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতারণা করলেও চলমান পরিস্থিতিতে করোনা রোগীদের নিয়েও অমানুষের মতো প্রতারণা করে আসছিল। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থান জানতে চায় বাবু। স্বজনরা যদি তাদের অবস্থান চট্টগ্রাম বলেন, প্রতারকেরা তখন তাদের অবস্থান দূরবর্তী কোনো জেলার কথা বলেন। তারা তখন গাড়িভাড়া বাবদ কিছু অর্থ তাদের পাঠাতে বলেন। স্বজনেরা সেই অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠানোর পরই প্রতারকেরা টাকা নিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রতারিত হয়ে ‌‌‌‍‘প্লাজমা ব্যাংক অব বাংলাদেশ (কোভিড-১৯)’ গ্রুপের অ্যাডমিনের কাছে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। তার কাছ থেকে মুঠোফোন নম্বর নিয়ে তদন্ত শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে শরিফ খানকে গ্রেফতার করা হয়। শরীফ খান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অন্তত ২০ থেকে ২২ জনের সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছেন বলে জানিয়েছেন। এমন আরো অনেক প্রতারক আছেন। তাদের গ্রেফকারের চেষ্টাও অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস