প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে একদিন পরই ফাঁস দিলেন নববধূ

প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে একদিন পরই ফাঁস দিলেন নববধূ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:০০ ১০ আগস্ট ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রেম করে বিয়ে করে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসার একদিন পরই আত্মহত্যা করেছেন এক নববধূ। এ ঘটনায় নববধূ সামছুন্নাহার আক্তার পিংকির স্বামী মুক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল রোববার দুপুরে স্বামী মুক্তারের এক আত্মীয়ের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে পিংকি। এ ঘটনায় পিংকির চাচা আবদুন নূর বাদী হয়ে সোমবার মুক্তারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

পিংকি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে।  

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সরাইল উপজেলার বেপারী পাড়ার নছর মিয়ার ছেলে মুক্তার দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জে ফার্নিচারের দোকানে নকশা মিস্ত্রীর কাজ করতেন। চার বছর আগে মুক্তার বিয়ে করেন। তার আড়াই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। গত কয়েকমাস আগে মুক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেম হয় কলেজছাত্রী পিংকির। 

মুক্তার নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে পিংকির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। গত শনিবার ভোরে পিংকী প্রেমিক মুক্তারের সঙ্গে পালিয়ে আসে। এর আগে তারা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা মোহরানায় বিয়ে করেন। মুক্তার পিংকিকে নিয়ে যায় সরাইলের বড্ডা পাড়ায় তার বড় ভাই নজরুল ইসলামের শ্বশুর বাড়িতে। গতকাল রোববার সকালে পিংকি জানতে পারে মুক্তার বিবাহিত ও তার একটি ছেলেও আছে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

রোববার দুপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে পিংকি আত্মহত্যা করে। পিংকিকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পিংকিকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ পিংকির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

দুপুরে পিংকির চাচা আব্দুন নূর বাদী হয়ে মুক্তার হোসেন, তার বড় ভাই আক্তার হোসেন ও ভাবি মুন্নি বেগমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনকে আসামি করে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পিংকির চাচা আব্দুন নূর বলেন, তথ্য গোপন করে পিংকির সঙ্গে প্রেম ও ফুসলিয়ে তাকে বিয়ে করে মুক্তার। মুক্তারের স্ত্রী সন্তানের খবর জেনে ক্ষোভে লজ্জায় ও আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে পিংকি। পিংকির  মৃত্যুর জন্য মুক্তার ও তার পরিবারের অন্য সদস্য ও তাদেরকে আশ্রয়দাতারাই দায়ী। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। 

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাইল থানার এসআই মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, প্রথম বিয়ের বিষয় গোপন করে পিংকির সঙ্গে প্রেম ও তাকে বিয়ে করেছে মুক্তার। পরে মনের দুঃখে আত্মহত্যা করেছে পিংকি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে