Alexa প্রিয় বিড়ালকে হত্যার ঘটনায় রাবি’র এক শিক্ষকের স্ত্রীর মর্মস্পর্শী চিঠি

প্রিয় বিড়ালকে হত্যার ঘটনায় রাবি’র এক শিক্ষকের স্ত্রীর মর্মস্পর্শী চিঠি

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:৩১ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:৩০ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিড়াল আদুরে, শান্ত-নিরীহ প্রাণী। এটির প্রতি কারো কারো আবেগ-ভালোবাসা বহু কিছুকে ছাড়িয়ে যায়। আর সেই প্রিয় প্রাণীটিকে যদি কেউ মেরে ফেলে, তাহলে ওই মৃত্যুশোক কি সহ্য করা যায়?  যায় না নিশ্চয়ই!

তাই তো পোষা বিড়ালের মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম হাছানাত আলীর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

ওই অধ্যাপকের স্ত্রী হেলেন গত বুধবার সকালে বিড়ালটির মরদেহ বগুড়ায় নিয়ে গিয়ে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করে এসেছেন। তার পরিবারের চার সদস্য ফেসবুকে নিজেদের ছবির পরিবর্তে বিড়ালটির ছবি দিয়ে প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করেছেন।

পোষা প্রিয় বিড়ালকে হত্যার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসানাত আলীর স্ত্রী একটি মর্মস্পর্শী চিঠি লিখেছেন। তার ওই চিঠির ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

ওই শিক্ষকের স্ত্রী হেলেন লেখেছেন, ‘আপনজন হারানোর কষ্ট অনুভব করছি! বিড়ালটা সব সময় ঘুমাতো আমার ছেলে বর্ণের সাথে। তার ঘরে তার সাথে একই খাটে একই বিছানায়। খাবার খেত বাসার সবার আগে। বিড়ালের নির্জীব দেহটি এখন পরে আছে ফ্লাটের গ্যারেজে। এখনও বাসার কারো খাবার খাওয়া হয়নি। বর্ণটা বিছানায় ছটফট করছে। বড় মেয়ের ঘর থেকে এখনও থেমে থেমে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। আমার বড় আম্মা বিড়ালটাকে প্রতি দিন নিয়ম করে মুখের খাবার নিজ হাতে প্লেটে মেখে তৈরী করে দিত তিনিও বাকরুদ্ধ।

বিড়ালের জন্য রান্না করে খাবার প্লেট নিয়ে এঘর ও ঘর করছে। এদৃশ্য সহ্য করার মত নয়। হেলেনটা চিৎকার করে কান্নাকাটি করছে এখনও। সচারাচর আমার চোখে অশ্রু ঝরেনা। কিন্ত আজ বিড়ালটাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা দেখে নিজের চোখের পানিটাকে কোনভাবেই ধরে রাখতে পারিনি। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। চিৎকার করে বিড়ালের নিধর দেহটাকে বলতে ইচ্ছে করছে আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি তোর নিরাপত্তা দিতে পারলাম না। 

তোর স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দিতে পারলাম না। এই পচেঁ যাওয়া সমাজের নোংড়া মানুষরুপি অমানুষটা তোকে বাচঁতে দিলো না। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে যে এমন কি ক্ষতি করলি যে তার জন্য তোকে জীবন দিতে হলো? হত্যাকারী তো জানতো তুই আমাদের বাসার প্রিয় একজন। বিশ্বাস কর আমাকে বললে নিশ্চয় তোর জীবনের জন্য আমরা সব করতাম। তোকে তো আমার চেনাজানা শিক্ষিত মানুষরুপি জানোয়ারই হত্যা করেছে।

ওরা তোর মত ক্ষুদ্র প্রাণীকেও ক্ষমা করতে পারলো না? তোর হত্যাকারী কি আসলেই মানুষ? তুই কি বুঝতে পারছিস আমরা তোকে হারিয়ে কেউ ভালনেই। তুই কি দেখতে পাচ্ছিস আমি এখন গোটা বাড়ী তোকে খুজে বেড়াচ্ছি। কোথাও না পেয়ে দু’চোখ বয়ে অশ্রু ঝড়ছে। জানিস আমার সাথে করা তোর দুষ্টমি গুলোকে খুব মিস করবো। ছোট মেয়ে সমাপ্তীটা তোর খুন হওয়া দেহটাও দেখতে পেল না। জোর হাত করে বলছি আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি তোকে বাচাঁতে পারলাম না। তোর জন্য আজ আমার অনেক অনেক কষ্ট হচ্ছে। জানিস আমি তোকে অনেক ভালবাসতাম। সত্যি বলছি তোকে আমি অনেক মিস করবো। সারাজীবন করবো।

জানা গেছে, বিড়াল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই অধ্যাপক পরিবারের সদস্যরা দুদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। কোনো আপনজনের মৃত্যুতে যেভাবে কান্না করে পরিবারের সদস্যরা, বিড়ালের জন্য সেরকমই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে অধ্যাপকের পরিবারে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর