প্রাসাদ নয়, এগুলো রেলওয়ে স্টেশন

প্রাসাদ নয়, এগুলো রেলওয়ে স্টেশন

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:১০ ৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১১:১৪ ৩ আগস্ট ২০২০

বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প সেন্ট্রাল। ছবি: সংগৃহীত

বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প সেন্ট্রাল। ছবি: সংগৃহীত

ট্রেন নিয়ে যুগ যুগ ধরে সিনেমা, সাহিত্য, সংগীত সবই হয়েছে; এখনো হচ্ছে। আবিষ্কারের পর থেকেই বহু বছর ধরে বিবর্তনের পর্যায়ে গেছে ট্রেন, কিন্তু এই বাহনের চাহিদা একটুও কমেনি। বরং প্রতিনিয়ত বাড়ছে ট্রেনের রাজত্ব।

ট্রেনে চড়তে হবে আপনাকে অবশ্যই রেলওয়ে স্টেশনে যেতে হবে। একেকটা স্টেশনের সৌন্দর্য একেকরকম। একেবারে সাধারণ থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের চেয়ে নান্দনিক ও বিলাসবহুল স্টেশন তৈরি করা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। অনেকেই এসব স্টেশনের সৌন্দর্যে নিমিষেই মুগ্ধ হয়ে যান।

মুগ্ধ হওয়ার মতো পাঁচটি রেলওয়ে স্টেশন নিয়ে এই আয়োজন—

গারে ডু নর্ড

গারে ডু নর্ড, প্যারিস

প্যারিসের নান্দনিকতার কথা কম-বেশি সবারই জানা। এই শহরের রেলওয়ে স্টেশনটিও বেশ মনোমুগ্ধকর। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর রেলওয়ে স্টেশনের তালিকায় এটি প্রথমেই থাকে। গারে ডু নর্ড রেল স্টেশনটি ১৮৬৪ সালে চালু করা হয়। এই স্টেশনে পর্যটকরাই সবচেয়ে বেশি ভিড় করেন।

কানাজাওয়া রেল স্টেশন

কানাজাওয়া রেল স্টেশন, জাপান

১৮৯৮ সালের ১ এপ্রিল কানাজাওয়া রেল স্টেশন চালু করা হয়। বাইরে থেকে দেখতে খুবই সাধারণ মনে হয় এই স্টেশনটি। তবে ভেতরে প্রবেশ করলেই টের পাওয়া যায় এর স্থপতিরা সৌন্দর্য বর্ধনের ক্ষেত্রে একটুও ছাড় দেননি। স্টেশনের বর্তমান নকশাটি পুরনো দুর্গের শহরের অবয়বের চেয়ে একেবারে ভিন্ন ধরনের। তাই যেকেউ কানাজাওয়া স্টেশনে মুগ্ধ হবেন নিশ্চিত!

সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল

সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল, লন্ডন

‘রেলপথের মন্দির’ হিসেবে পরিচিত লন্ডনের প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল। এটি ভিক্টোরিয়ান ধাঁচের রেলওয়ে স্টেশন। ১৮৬৮ সালে স্টেশনটি চালু করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও এটি টিকে গেছে। তবে এত বছরে একাধিকবার সংস্কারেরও প্রয়োজন হয়েছে । কিন্তু আপনি এখনো এই স্টেশনের পুরনো নকশা দেখতে পাবেন।

অ্যান্টওয়ার্প সেন্ট্রাল

অ্যান্টওয়ার্প সেন্ট্রাল, বেলজিয়াম

শত বছর পেরিয়ে এক যুগও চলে গেল! অথচ অ্যান্টওয়ার্প সেন্ট্রাল স্টেশনের কথা এই তালিকায় থেকেই গেল। ১৯০৫ সালে অ্যান্টওয়ার্প সেন্ট্রাল চালু হয়। সেখানে গেলে নান্দনিক এই স্টেশনের স্থাপত্যশৈলীর অনন্য সব বিচ্ছুরণ আপনি দেখতে পাবেন। পাথর, গ্লাস ও বিভিন্ন ধরনের ধাতবের তৈরি এই স্টেশনে ৭৫ মিটার উঁচু একটি গম্বুজও আছে।

ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস

ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস, মুম্বাই

অনবদ্য স্থাপত্যশৈলীর এই শিল্পনিদর্শন ২০০৪ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের মর্যাদা লাভ করে। ফ্রেডরিক উইলিয়াম স্টিভেন্স নামের এক স্থপতির নকশা অনুযায়ী- ১৮৮৭ থেকে ৮৮ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ করা হয়। ভারতের সেই সময়ের শাসক ব্রিটিশ রাণী ভিক্টোরিয়ার শাসনের স্বর্ণজয়ন্তী বর্ষে (১৮৮৭ সাল) এটি নির্মাণ হয়। তাই শুরুতে এটির না ছিল ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস। ১৯৯৬ সালে মুম্বাই সরকার সপ্তদশ শতাব্দীর মারাঠা সম্রাট ছত্রপতি শিবাজির নামানুসারে স্টেশনটির নাম পরিবর্তন করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে