Alexa প্রাণী হাসপাতালেও চিকিৎসকের ঘাটতি!

প্রাণী হাসপাতালেও চিকিৎসকের ঘাটতি!

মো. আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৮ ২৯ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দুটি প্রাণী হাসপাতালেই দোতলা ভবন রয়েছে। ভবনের ভিতরে আছে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, চিকিৎসা সামগ্রী। কিন্তু কোনো হাসপাতালেই নেই কোনো চিকিৎসক। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পশু-পাখির চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পালনকারীরা। 

চিকিৎসকবিহীন প্রাণী হাসপাতাল দুটির একটি হচ্ছে টাঙ্গাইল জেলা প্রাণী হাসপাতাল অপরটি টাঙ্গাইলের সন্তোষ এলাকায় অবস্থিত পীর শাহজামান প্রাণী হাসপাতাল।

জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের সূত্রানুযায়ী, শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড়ের জেলা প্রাণী সম্পদ হাসপাতালটিতে ১১ বছর ধরে ভেটেনারি সার্জন নেই। হাসপাতালের অফিস সহকারী এবং অ্যানিমেল অ্যাটেনডেন্ট প্রেষণে অন্যত্র রয়েছেন। একজন কম্পাউন্ডার এবং একজন অফিস সহায়ক চালাচ্ছেন হাসপাতালটি। সাধারণ রোগাক্রান্ত কোন পশুপাখি এখানে আনা হলে কম্পাউন্ডার চিকিৎসা দিতে পারেন। কিন্তু ভেটেনারি চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগাক্রান্ত পশুপাখির চিকিৎসা এখানে হয় না। 

সেক্ষেত্রে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় সদর উপজেলা প্রাণী হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও ভেটেনারি সার্জন নেই। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। 

অপরদিকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর অনুরোধে পীর শাহজামান প্রাণী হাসপাতাল স্থাপিত হয়। হাসপাতালটিতে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের মানুষ তাদের পশুপাখি চিকিৎসার জন্য আসতেন। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে এ হাসপাতালে ভেটেনারি সার্জন, কম্পাউন্ডার, অ্যানিমেল অ্যাটেনডেন্ট, অফিস সহায়কসহ সব পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এ হাসপাতালটি অঘোষিতভাবে কার্যক্রমবিহীন রয়েছে। 

জেলা প্রাণী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল ক্যাম্পাস অনেকটা পরিত্যক্ত। ভবনের চারপাশে আগাছা জন্মেছে। সেখানে অফিস সহায়ক শাহীন মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তিনি একজন কম্পাউন্ডার। পশু পাখি নিয়ে আসা হলে তিনিই চিকিৎসা দেন। তিনি চিকিৎসা দিতে না পারলে সদর উপজেলা প্রাণী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরো করুণ দৃশ্য চোখে পড়ে সন্তোষ পীর শাহজামান প্রাণী হাসপাতালে গিয়ে। সেখানে চিকিৎসক কম্পাউন্ডারসহ কোন পদেই লোক নেই। হাসপাতালটি অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে আছে। সদর উপজেলা প্রাণী হাসপাতালের ড্রেসার পদবির একজনকে এখানে দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি প্রতিদিন এসে অফিস খুলে বসে থাকেন।

ড্রেসার মীর মহাব্বত জামান জানান, এখানে এখন লোকজন পশু-পাখি নিয়ে খুব একটা আসে না। শহরের সদর সড়কের আনিছুল করিম খান জানান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার পরও শুধু চিকিৎসক পদায়ন না করায় তাদের পালিত পশুপাখি এ হাসপাতাল দুটিতে চিকিৎসা করাতে পারেন না। চিকিৎসক থাকলে মানুষ হাসপাতাল দুটির সেবা নিতে পারতো। 

জেলা পোল্ট্রি মালিক সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন মোল্লা জানান, হাসপাতাল দুটিতে চিকিৎসক থাকলেও এ এলাকার পোল্ট্রি খামারীরা আরো বেশি উপকৃত হতো। যেহেতু অবকাঠামো এবং সকল চিকিৎসা সরঞ্জাম এখানে রয়েছে। তাই এখানে চিকিৎসক এবং অন্যান্য পদে জনবল পদায়ন করা প্রয়োজন।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এসএম আউয়াল হক জানান, উক্ত দুটি হাসপাতালসহ জেলার আরো কয়েকটি উপজেলায় ভেটেনারি সার্জনের পদ শূন্য রয়েছে। শূন্যপদে পদায়নের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস