Alexa প্রাইমারি স্কুলের কমিটিতে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রাইমারি স্কুলের কমিটিতে আসছে বড় পরিবর্তন

সাইফুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০০ ৮ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:০২ ৮ নভেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে এ কমিটি গঠনের নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি কার্যকর করতে এই সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

নতুন নীতিমালায় রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্বনিম্ন স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যোৎসাহী সদস্যদেরও এসএসসি পাস হতে হবে। তবে এবারের নীতিমালায় অভিভাবক প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি বলে জানা গেছে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি এগারো সদস্যের হতে হবে। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক কমিটি সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্য থেকে এসএসসি পাশ একজন বিদ্যোৎসাহী নারী ও পুরুষ সদস্যকে তিনি নির্বাচিত করবেন।

এছাড়া কমিটিতে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বা জমি দাতা অথবা তার উত্তরাধিকারী একজনকে কমিটিতে রাখতে হবে। জমি দাতা অথবা উত্তরাধিকারী নিয়ে সংকট দেখা দিলে উপজেলা শিক্ষা কমিটি প্রতিনিধি ঠিক করবে।

এদের বাইরে থেকে নিকটবর্তী মাধ্যমিক স্কুলের একজন শিক্ষককে কমিটিতে রাখা হবে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ভোটে দুই জন নারী ও দুই জন পুরুষ সদস্য নির্বাচিত হবেন।

স্কুলটি ইউনিয়ন বা পৌরসভার যে ওয়ার্ডে অবস্থিত সেখানকার ইউপি সদস্য বা কাউন্সিলর পদাধিকার বলে সদস্য মনোনীত হবেন। এই ১১ জনের ভোটে স্নাতক পাশ একজনকে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত হবেন। 

একই স্কুলে টানা দুই বারের বেশি কোনো ব্যক্তি সভাপতি হতে পারবেন না। কমিটির সদস্যরা সভাপতিকে লিখিতভাবে না জানিয়ে টানা তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ বাতিল হবে। কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে ছয় মাসের জন্য এডহক কমিটি গঠন করতে হবে। এডহক কমিটির সভাপতি হবেন সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।

মে, আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে বছরে মোট তিনবার শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের ওপর প্রতিবেদন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দিবে ব্যবস্থাপনা কমিটি। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। কমিটির সব সদস্যকে প্রতি মাসের শেষ কর্ম দিবসে ক্লাস শেষে অন্তত এক ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সুপারিশ শুনে উপজেলা শিক্ষা কমিটির কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও মান বৃদ্ধির জন্য স্কুল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যে শিক্ষার সঙ্গে নেই সে শিক্ষার দায়িত্ব নিয়ে কি করবে? এজন্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে কমপক্ষে স্নাতক পাস হতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষিত ও যোগ্য লোকদের সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছি। তা না হলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নতি হবে না।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয় ও শিক্ষার প্রতি মায়া থাকতে হবে। তা না হলে বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। মন্ত্রণালয় এটি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে হলে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটিকেও শিক্ষা অন্তপ্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ