Alexa প্রাইভেট চেম্বারে আসেন, ভালো করে দেখে দেব

প্রাইভেট চেম্বারে আসেন, ভালো করে দেখে দেব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫২ ১১ জুন ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার গৃহবধূ খালেদা বেগম। গত দুদিন ধরে দাঁতের ব্যথায় অস্থির হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খেয়েও ব্যথা লাঘব হয়নি তার।

অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান খালেদা। সেখানে ডেন্টাল সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল বারীকে দেখান তিনি।

ডা. আবদুল্লাহ আল বারী দাঁত দেখে খালেদাকে পরামর্শ দেন, ‘এটিতো সরকারি হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসা দেয়ার মতো তেমন যন্ত্রপাতি নেই। তাই বিকেলে আমার প্রাইভেট চেম্বারে আসেন। ভালো করে দেখে (চিকিৎসা) দেব।’

খালেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত দুদিন ধরে দাঁতের ব্যথায় অস্থির হয়ে স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার আনুমানিক সাড়ে এগারটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। সেখানে ডেন্টাল সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল বারীর (বিডিএস) কক্ষে ঢুকে দাঁতের সমস্যার কথা তুলে ধরি। এ সময় ওই ডাক্তার মোবাইল টর্চ লাইট দিয়ে আমার দাঁত দেখেন। পরে আমাকে বিকেলে হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে থাকা ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন।

খালেদার স্বামী দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতাল হলো গরিব রোগীদের জন্য। আর সেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা যদি রোগীদের প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেন, তাহলে গরিব রোগীরা কোথায় যাবে।

তবে ডেন্টাল সার্জন আবদুল্লাহ আল বারী বলেন, ওই রোগীর দাঁতের ভেতরে ছোট্ট একটি কাঠি ঢুকানো অবস্থায় দেখতে পাই। কাঠিটি বের করার কোনো যন্ত্র সরকারি হাসপাতালে নেই। তাই বিকেলে তাকে আমার প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাইমুল হুদা বলেন, সরকারি ডাক্তার কখনো কোনো রোগীকে প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন না। ভুক্তভোগী ওই রোগী বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর