Alexa প্রযুক্তি যতটা বদলে দিচ্ছে আমাদের

প্রযুক্তি যতটা বদলে দিচ্ছে আমাদের

প্রকাশিত: ১৭:৪৩ ৯ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১৭:৪৭ ৯ এপ্রিল ২০১৯

অজয় দাশগুপ্ত সিডনি প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও ছড়াকার। জনপ্রিয় কলাম লেখক অজয় দাশ গুপ্তের জন্ম চট্রগ্রামে। দীর্ঘকাল প্রবাসে বসবাসের পরও তিনি দেশের একজন নিয়মিত কলাম লেখক। সম-সাময়িক বিষয়ের পাশাপাশি তির্যক মন্তব্য আর প্রেরণা মুলক লেখায় তিনি স্বীয় আসন নিশ্চিত করেছেন।

মানুষ কি বই পড়া বাদ দিয়েছে? তাদের জীবনে কি বইয়ের আর কোনো গুরুত্ব নেই? এমন কথা আজকাল প্রায়ই শুনতে হয়। মানতে হবে মানুষের অভ্যাসের জায়গাগুলো খুব দ্রুত আর ব্যাপক পরিবর্তনের শিকার। এসব কি নতুন কিছু? মানুষের জীবন-ই তো পরিবর্তনের ফলাফল। রবীদন্দ্রনাথ তার প্রিয় দার্শনিক পল এস বার্কের একটি বাক্য মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন। Change change change is life.সে পরিবর্তন অমোঘ। চাইলেও আমরা তা রদ করতে পারিনা। জীবন এখন পরিবর্তনের এক যাদুকরী ফসল।

প্রশ্ন হচ্ছে মানুষ কি তার মৌলিক জ্ঞান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে? আমরা যদি অতীতে চোখ রাখি দেখবো যে যুগে বই পুস্তক আসেনি সে যুগেই জ্ঞানের প্রচার ও প্রসার ছিলো অভূতপূর্ব। বুদ্ধ চৈতন্য কিংবা লালন ফকির কেউই মূলত সেভাবে জ্ঞান আহরণ করতে শেখেননি। অথচ এরা আমাদের জীবনকে এমনভাবে প্রভাবিত করে রেখেছেন যা অনেকে পারেননি। এর আগে ভারতে মানুষ শিলালিপিতে উৎকীর্ণ করতো তাদের ভাষা। ভয় ছিলো অভিজ্ঞতা হারিয়ে যাবে। তাই পাথরে খোদাই শিলালিপি করার রেওয়াজ ছিলো।সন্দেহ নাই সেখান থেকে পুষ্ট হয়েছে সভ্যতা। যার মানে যুগে যুগে বাহন পাল্টে গেলেও মৌলিক বিষয় ছিলো এক। আজ যখন দুনিয়া মূলত যন্ত্র নির্ভর আমাদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছে লিখিত বই পুস্তক কি থাকবে আদৌ?

দেশের বইমেলা বা পুস্তকের প্রসার দেখলে তা মনে হয় না। এখনো মানুষ বই কেনে। শুধু কেনে বললে ভুল হবে ভালো ভাবেই তা কেনে। এটা প্রমাণ করে এই মুদ্রণ শিল্প হারিয়ে যাবার মতো কিছু না। তবে তার আঙ্গিক পরিবর্তন হয়ে নানা ভাবে সামনে আসছে। ই-রিডার বা কম্পিউটর সে জায়গা দখল করে নিচ্ছে। এককালে প্রচারে শীর্ষ অবসহানে থাকা অনেক মুদ্রিত পত্রিকা বা মিডিয়ার সার্কুলেশান এখন তোপের মুখে। শুধু আমাদের দেশে না আমেরিকা বিলেতেও এর ব্যাপক প্রকোপ। অথচ ভারতের দি হিন্দু পত্রিকা এখনো বিস্ময়কর প্রচার সংখ্যায় আমাদের চোখে ধাঁধা লাগিয়ে সচল। ফলে এক কথায় বলা যাবেনা যে কোনটা সত্য আর কোনটা ভুল।
তরুণ তরুণীরা কি ভাবে কি তাদের মনোভাব সেটা বোঝা জরুরি। আমরা যারা বয়সী তারা আহাজারি করলেও লাভ হবেনা। বরং এর একটা ভারসাম্য দরকার।

ক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি গুগোল বা কোনো অ্যাপসের সাধ্য নাই লাইব্রেরির জায়গা দখল করতে পারে। আপনি যেকোন লাইব্রেরিতে ঢুকলেই মন জুড়িয়ে যাবে। শুধু যে পড়ার জন্য যাবেন এমনও না। সেখানকার পরিবেশ আর সারি সারি বই রাখার যে পরিবেশ সেটাও মনোমুগ্ধকর। আমরা যৌবনে অকারণে সেখানে গিয়ে সময় কাটাতাম। ঠিক যেমন চন্দনের বনে থাকলে গায়ে সুবাস এসে লাগে তেমন একটা অনুভূতি। এটা কোনো ছোট পর্দা দিতে পারে না। শব্দের যে জ্যোতি বা তার যে অসীম শক্তি তা বুঝতে হলে এক বই অনেকবার পাঠ করতে হলে বা তাকে কাছাকাছি রেখে দিতে হয়। যখন সময় হয় তখন খুলে খুলে তার ঘ্রাণ ও আমাদের মন ভরিয়ে দেয় বৈকি। সুনীল গঙ্গোপধ্যায়ের একটা লেখায় এমন ছিলো যে তিনি বলছেন তার স্বপ্ন একদিন তার বইগুলো মরে ভূত হবে আর সেদিন তারা কম্পিউটারের টুঁটি চেপে ধরবে। এই যে ভাবনা এটা কেবল ভয় থেকে এসেছে এমন ভাবা অন্যায়। বরং মনে করা যেতে পারে কোনটা বুদবুদ আর কোনটা আসলে কালজয়ী তার একটা হিসেব। 

সভ্যতাকে পুষ্ট করে তোলা লেখালেখি ও এখন বিপদের মুখে। মানুষ আর লেখে না। শুধু মাউস আর টাইপের খেলা। এই প্রক্রিয়া ও সুখকর কিছু না। মানুষ যদি বায়বীয় জগতের চাপে এসব আসল বিষয় থেকে ক্রমাগত দূরে সরতে থাকে সভ্যতা কি তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে? এ প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক। খেয়াল করবেন এক হেড ডাউন জেনারেশানের যুগ চলছে এখন। যেখানে যাবেন দেখবেন মানুষ মাথা নীচু করে বাটন দাবিয়ে চলছে। ছোট থেকে বুড়ো সবাই। যার ফলে মানুষের শারীরিক ভাষাও গেছে বদলে। চোখে চোখ রেখে মনের কথা বুঝে নেবার সময় যেন শেষ। বায়বীয় জগতে বিচরণ করা মানুষ আজ মৌলিক প্রেম ভালোবাসাও হারিয়ে ফেলছে। তাই তার প্রত্যাবর্তন জরুরি।

কিভাবে তা সম্ভব? যেভাবে পুরণো দিন পুরণো ফ্যাশান পুরণো ঐতিহ্য  ফিরে আসছে একদিন সেভাবেই ফিরে আসবে লেখা ও ব ইয়ের জগত। আগেও বলেছি বই ফুরোয় নি। বাঙালি বই ছাড়া বাঁচবে না। কখনো তার অলস দুপুর মায়াবী সন্ধ্যা কিংবা রাতের সঙ্গী ভালো কোনো বই। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি মানুষ এই চলমান প্রক্রিয়ায় অচিরেই ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তার এই চরম বিনোদন বা অসহ্য সুখ বেশিদিন সইবে না। একসময় তার কাছে  বই ফিরে আসবেই। সে যে মা। সে ধাত্রী। তার কোলেই বড় হয়েছে শিল্প সাহিত্য। তাকে বিনাশ করে এমন অসুর এখনো জন্মায়নি পৃথিবীতে। সাময়িক যেসব মাধ্যম মাথা তুলছে বা তুলছে তাদের গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে কিছু কিছু হয়তো টিকে যাবে। না টিকলেও সভ্যতা হারাবে অনেক কিছু। তাই যন্ত্র ও প্রযুক্তি থাকুক। যেমন তা আমাদের যোগ করেছে বাকি দুনিয়ার সঙ্গে এখন যেমন করছে। প্রযুক্তির আর্শীবাদে লেখক পাঠকের জগত হোক আরো অবারিত। আন্টলাটিক থেকে প্রশান্ত পার কিংবা দানিয়ুব থেকে পদ্মা সর্বত্র এক শিল্প এক সাহিত্যের দরকার নেই তবে প্রয়োজন আছে মেলবন্ধন। তা না হলে আমার বন্ধু অষ্ট্রেলিয়ান লেখক ওয়াইন এষ্টন যে চট্টগ্রাম নিয়ে একখানা উপন্যাস লিখেছিলেন তাতো জানা হতোনা। স্বাধীনতার ঠিক আগের চট্টগ্রামে হাঁড়ি করে বিক্রি করা বাখরখানি ওয়ালার ছাতা মাথার ছবি সহ প্রচ্ছদ টাও দারুণ। শুনে পুলকিত হবেন সে গ্রন্থ অনুবাদ হয়ে ঢাকায় ও পেয়ে গেছে ভালো বাজার। এটুকু আমরা চাই। চাই এই আর্শীবাদ। কিন্তু আমাদের জীবন থেকে ব ই কেড়ে নেয়ার চক্রান্ত করা কোনো মাধ্যম চাই না।

সৈয়দ মুজতবা আলীর কথায় ফিরে আসি। কোনো অপরাধী এখন আর বইয়ের পাতায় পাতায় বিষ রাখে না। কারণ রাজা রাণীদের বই পড়ার সময় নেই। সাধারণ মানুষের মন ও মননে থাকা বইয়ের জয় হোক। হোক আয়ুস্মতী। চির যৌবনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর
 

Best Electronics
Best Electronics
শিরোনামকুমিল্লার বাগমারায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৭ শিরোনামবন্যায় কৃষিখাতে ২শ’ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হবে না: কৃষিমন্ত্রী শিরোনামচামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের তদন্ত চেয়ে করা রিট শুনানিতে হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের অপারগতা প্রকাশ শিরোনামচামড়া নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সমাধানে বিকেলে সচিবালয়ে বৈঠক শিরোনামডেঙ্গু: গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬ জন: স্বাস্থ্য অধিদফতর শিরোনামডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দুপুরে আদালতে উপস্থাপন শিরোনামডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক শিরোনামইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, দুই শিশুসহ নিহত ৭ শিরোনামআফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩