Alexa প্রধান শিক্ষককে ঘুষ না দেয়ায় বেতন বন্ধ!

প্রধান শিক্ষককে ঘুষ না দেয়ায় বেতন বন্ধ!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৩:৪৯ ১৭ জানুয়ারি ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঘুষ না দেয়ায় লালমনিরহাটের আদিতমারীতে এক সহকারী শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দিয়েছে প্রধান শিক্ষক। এছাড়া বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী মনোয়ারুল ইসলাম জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দুলালী গ্রামের ভূমিহীন মাইনুল ইসলামের ছেলে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর পাস করেন। এরপর আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউপির কুমড়ীরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে নিয়োগ পান।

নিয়োগের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল আট লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু ছেলের চাকরির জন্য একসঙ্গে এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ভূমিহীন বাবা। ফলে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা হারে কিস্তিতে পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে চাকরি হয় মনোয়ারুলের। তবে যোগদানের সময় দুইটি সাদা কাগজে ও ছয়টি চেকে মনোয়ারুলের স্বাক্ষর করে নেন প্রধান শিক্ষক।

২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর ১১৫৫১০২ নম্বর ইনডেক্স এমপিওভুক্ত হয়ে নিয়মিত বেতন ভাতা তোলেন সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুল। বেতন তুলে চুক্তি মোতাবেক প্রতি মাসে তা পরিশোধ করেন। এর মধ্যে ডিসেম্বরে চেক বন্ধক রেখে বিভিন্ন সমিতি ও সুদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ঘুষের টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু এ ঋণের কিস্তি দিতে চাকরির সব বেতন কাটা হবে বলে এতে রাজি হননি ভুক্তভোগী এ শিক্ষক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কামরুল তার বেতন বন্ধ করে দেন। এমনকি ১ জানুয়ারি শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সামনে তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন।

এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক এবং ডিসিসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন মনোয়ারুল। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পুরো পরিবারকে দেখে নেয়ার ও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন প্রধান শিক্ষক। ৭ জানুয়ারি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি জিডি করা হয়।

সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কিস্তিতে টাকা দিতে চেয়েছি। প্রধান শিক্ষক ঋণ নিয়ে একসঙ্গে পরিশোধের জন্য চাপ দেন। কিস্তি দিতে পুরো বেতন চলে যাবে। তাই ঋণ করে দেইনি। এজন্য প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বেতন বন্ধ করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। প্রতিবাদ করলে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় মনোয়ারুলকে চাকরিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছেন প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম ঘুষের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যেহেতু অভিযোগ করেছে, সেহেতু তদন্ত কর্মকর্তাকে লিখিত বক্তব্য দেয়া হবে। গণমাধ্যমে তথ্য দিতে বাধ্য নই। যা লেখার লিখে যান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ মাহফুজ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দায়ের করা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে বলা হয়েছে। না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর