Alexa প্রধানমন্ত্রী হয়েও রোগী দেখছেন ময়মনসিংহের সেই চিকিৎসক

প্রধানমন্ত্রী হয়েও রোগী দেখছেন ময়মনসিংহের সেই চিকিৎসক

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০১ ১১ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:১৮ ১১ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হিমালয়ের পাদদেশের সুখি মানুষের ছোট্ট দেশ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হয়েও প্রতি সপ্তাহের শনিবার রোগী দেখেন বাংলাদেশের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র লোটে শেরিং।

সাড়ে সাত লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ২০০৮ সালে রাজার একচ্ছত্র ক্ষমতার অবসানের পর তৃতীয় গণতান্ত্রিক নির্বাচনে গতবছর তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে তাকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে হয়।

৫০ বছর বয়সী লোটে শেরিং বলেন, এটি আমার ওপর (রাষ্ট্রীয়) চাপ কমাতে সহায়তা করে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু লোক গলফ খেলে, কেউ খেলে আর্চারি (তীর ছোড়া) এবং আমি অপারেশন করতে পছন্দ করি। এ কারণেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি আমি এখানে কাটাই। 

বুমথাপ নামে একজন রোগী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই আমার অপারেশন করেছেন এবং তাকে দেশের সেরা ডাক্তারদের একজন বলে মনে করা হয়। এজন্য আমি আরো বেশি স্বস্তিবোধ করছি। 

প্রতি সপ্তাহের একটি দিন হাতে গ্লাভস, গায়ে ডাক্তারদের পোশাক জড়িয়ে লোটে শেরিং যখন হাসপাতালের বারান্দা ধরে নিঃশব্দে হেঁটে যান, তখনও হাসপাতালের নার্স এবং অন্যান্য কর্মীদেরকে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে দেখা যায়। 

দেশটির রাজধানী থিম্পুতে কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি নেই, তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ এবং ১৯৯৯ সালে টেলিভিশন সম্প্রচারের অনুমতি দেয়া হয়। তবুও ‘বজ্র ড্রাগনের’ দেশটিতে দুর্নীতি, গ্রামীণ দারিদ্র, যুব বেকারত্ব ও গ্যাং অপরাধের মতো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশিক্ষিত লোটে শেরিং ২০১৩ সালে রাজনীতিতে পা রাখলেও ওই বছরের নির্বাচনে তার দল তেমন সুবিধা করতে পারেনি।

নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর দেশটির তৎকালীন রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক তাকে চিকিৎসকদের একটি দল গঠন করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে বিনে পয়সায় চিকিৎসা সেবা দিতে বলেন।

সেই থেকে শুরু। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং প্রতি শনিবার রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের পরামর্শ দেন এবং সোমবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান।

শেরিং বলেন, আমৃত্যু আমি এভাবেই সেবা দিয়ে যেতে চাই এবং প্রতিদিন কেনো পারি না তা নিয়ে আমার অনুশোচনা হয়

রাজধানী থিম্পুর সড়কে কোনো ধরনের নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া লোটে শেরিং যখন নিজেই গাড়ি চালিয়ে যান, সবাইকে তখন তিনি আপন মানুষ বলেই মনে করেন।

তিনি বলেন, যখন আমি গাড়ি চালিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বের হই, আমার মনে হয় বামে একটু ঘুরলেই আমি হাসপাতালে চলে যেতে পারবো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

Best Electronics
Best Electronics