প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প

ববি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১২ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:২৬ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৮ পেয়েছেন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ শিক্ষার্থী।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী পেয়েছেন এ পদক। তাদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানাচ্ছেন শফিকুল ইসলাম। 

গণিত বিভাগের আসলাম হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ যে কোনো শিক্ষার্থীর কাছেই সব থেকে বড় প্রাপ্তি। ভালো ফলাফল অর্জনের বড় স্বীকৃতি এ পদক। এই অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। এরপর কৃতজ্ঞ শিক্ষকদের প্রতি।  যাদের সঠিক দিক নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা এ সফলতা এনে দিয়েছে। 

বিশ্বাস করি বর্তমান অবস্থান আমাকে পরবর্তী অবস্থান ঠিক করে দিবে। অনুজদের বলবো, প্রতিদিন ক্লাস লেকচারটা ভালো করে বোঝার চেষ্টা করতে। ক্লাসে স্যারের লেকচার ছাড়াও অনেক শিখতে হবে। রেফারেন্স বই দেখতে হবে। এ বই থেকে আগামীকাল স্যার কি পড়াবেন তা আগে থেকে দেখে যাওয়া। 

প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের বলবো, নিজেদের কয়েকটি প্রশ্ন করে উত্তর খুঁজে বের করতে বলবো
১) তোমার স্ট্রেন্থ কী?
২) তোমার দুর্বলতা কী?
৩) তোমার টার্গেট কী? 
৪) তোমার টার্গেটে পৌঁছাতে তোমার স্ট্রেন্থ আর দুর্বলতার প্রভাব কতটুকু? 

অর্থনীতি বিভাগের জান্নাতুল মাওয়া মৌসুম বলেন, অনেক সুন্দর একটা অনুভূতি। খুব ভাল লেগেছে। এ ধরনের সম্মাননার জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা ভালো কিছু করতে আরো উৎসাহী হয়। কার্যকরী উপায়ে পড়াশোনায় ভালো ফল নিয়ে আসে। শুধু পাসের জন্য না পড়ে জানার জন্য পড়তে হবে। একাডেমিক পড়াশোনা গুরুত্ব দিতে হবে। অনেকেই
চাকরির প্রস্তুতিতে এতটাই ঝুঁকে যায় যে, একাডেমিক পড়াশোনাকেব অমূল্যায়ন করে। চাকরির বাজারে একাডেমিক ফল ও জ্ঞানের আলাদা একটা মূল্যায়ন সর্বত্রই রয়েছে। তাই একাডেমিক শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। তাই চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি একাডেমিক দিকটাকেও গুরুত্বের সাথে দেখা উচিৎ। 

ইংরেজি বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম নবনী বলেন, এ পদক পাওয়ার আনন্দ বর্ণনাতীত। নিঃসন্দেহে অনেক গর্ব এবং সম্মানের বিষয়। সৃষ্টিকর্তা, পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী, সবার কাছেই কাছে কৃতজ্ঞ। পরিবারের সদস্যরা ছায়ার মতো ছিলেন। তাদের কারণেই এতদূর আসা। শিক্ষকরা ভালো করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। 

বিশ্বাস করি ভরসা রেখে সততা এবং পরিশ্রমের সঙ্গে একাগ্রচিত্তে কাজ করলে সফলতা আসবেই। বাধা বিপত্তি আসবেই। ভেঙে না পড়ে বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়াটাই লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। 

মার্কেটিং বিভাগের সারমিন সুলতানা বলেন, অর্জন সবসময়ই আনন্দের। আর সেটা যদি হয় স্বপ্নছোঁয়া তাহলে তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। এ অর্জনে আমার যতটা অবদান তার থেকে বেশি অবদান আমার পরিবারের। ভালো কিছু করতে হলে অবশ্যই বর্তমানকে প্রায়োরিটি দিতে হবে। ছোটো ছোটো কাজ মনোযোগ দিয়ে করতে হবে। যেহেতু গ্রামের মেয়ে তাই ভবিষ্যতে গ্রামের নারীদের অগ্রগতির জন্য কাজ করার প্রবল ইচ্ছা আছে এবং সৎভাবে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করবো।

মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সায়মা মুজিব বলেন, যে কোনো অর্জন সবসময়ই অনেক আনন্দের। আর সেই অর্জন যদি হয় প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক, তাহলে আনন্দের সঙ্গে গর্বের শেষ থাকে না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। ছোটোবেলা থেকে সব সাফলেই খুশি হয়েছেন বাবা-মা এবং আমার নানু। নানু বেঁচে থাকলে হয়তো আজ বেশি খুশি হতেন। 

ভালো ফলের জন্য খুব বেশি পড়াশোনা করতে হয় না। সবচেয়ে বেশি দরকার পরিকল্পনা। চেষ্টা করেছি পরীক্ষায় একটু হলেও ইউনিক কিছু লেখার। ভালো ফলাফলের জন্য একটা এক্সট্রা অর্ডিনারি কাজ খুবই  সহায়ক। ভবিষ্যতে এরকম সাফল্য অর্জনের ধারাকে অব্যাহত রাখতে চাই। যে অবস্থানে পোঁছাই না কেনো সততার সঙ্গে যথাসাধ্য মানুষের সেবা করতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম