প্রথম দিনেই ‘ডিজিটাল হাট’ থেকে গরু কিনলেন ৩ মন্ত্রী

প্রথম দিনেই ‘ডিজিটাল হাট’ থেকে গরু কিনলেন ৩ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১২ ১১ জুলাই ২০২০  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

কোরবানির পশু ঘরে বসে কিনতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে উদ্বোধন করা হলো ‘ডিজিটাল হাট’। উদ্বোধনের পরপরই ‘ডিজিটাল হাট’ থেকে গরু কিনেছেন তিন মন্ত্রী।

শনিবার ডিজিটাল এ হাটের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। 

উদ্বোধনের পর অনলাইনে গরু কেনেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের গরুর মূল দাম এক লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকা। বাসায় পৌঁছানো, গরু জবাইসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এই গরুর দাম পড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার ২৩ টাকা।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এক লাখ টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ৭৯ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে একটি গরু কেনেন। অন্যান্য চার্জসহ গরুর দাম পরে এক লাখ ১২২ টাকা।

ডিজিটাল হাটে শুধু পশুই কেনা নয়, রয়েছে দক্ষ কসাই দিয়ে কোরবানি করিয়ে নিজের কিংবা আত্মীয়ের বাসায় মাংস পৌঁছে দেয়ার সুযোগ। তবে এতে পশু জবাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় গরুর মূল দামের সঙ্গে আরো ২৩ শতাংশ ও বাসায় পৌঁছানোর জন্য ঢাকার মধ্যে ১৫০০ টাকা চার্জ দিতে হবে।

আজ থেকে যে কেউ যেকোনো সময় https://digitalhaat.net/ এ ঠিকানা থেকেই কোরবানির পশু কিনতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি ডিজিটাল গরুর হাট থেকে কেবল গরু কেনাই নয়, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জবাই করে বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে। এটি বিশাল একটি ‘কালেক্টিভ এফার্টের’ ব্যাপার। এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করলাম। এতে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। অনেক ভুলত্রুটি হতে পারে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করতে চাই। 

তিনি বলেন, আমাদের আল্টিমেট গোল হচ্ছে, যত্রতত্র গরু বেচাকেনা এবং কোরবানি না দিয়ে একটা সিস্টেমের মধ্যে আনা। এর ফলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু কেনাবেচা করা যাবে। এছাড়া আধুনিক উপায়ে পশু কোরবানিও দেয়া যাবে। কোরবানিকৃত পশুর রক্ত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো সুষ্ঠুভাবে করা যাবে। অনলাইনের মাধ্যমে পশু কেনাবেচা ও কোরবানি দেয়া হলে পশুর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যেগুলো আমরা ফেলে দিই, সেগুলো রফতানি করার জন্য সংরক্ষণ করা যাবে। চামড়া সংরক্ষণ করা আগের চেয়ে সহজ হবে। 

আতিকুল ইসলাম বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের কোরবানি হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। যারা কোরবানি হাটে যাবেন তাদেরকে তিনি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দেন।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল গরুর হাটের মাধ্যমে কোরবানি পশু ক্রয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো। ভবিষ্যতে করোনার প্রাদুর্ভাব কমে গেলেও আমরা কোরবানি পশু ক্রয়ে এ ধরনের অনলাইন প্লাটফর্মের উপর নির্ভর করতে পারবো। 

ইক্যাবের সভাপতি শমী কায়সারের সঞ্চালনায় অনলাইন সভায় অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান এবং এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বক্তব্য রাখেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস.আর/এসআই