Alexa প্রথম গল্পের সম্মানী ১৫ টাকা 

প্রথম গল্পের সম্মানী ১৫ টাকা 

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৯ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কলকাতায় বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ থিয়েটার করতেন তিনি। কোনো নামিদামি লেখক তাদেরকে নাটকের স্ক্রিপ্ট দিতেন না। বন্ধুদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত নাটক লিখলেন। পরদিন সেই নাটক সবাইকে শোনালেন। সবার মুখ গম্ভীর। আর যা–ই হোক, নাটক হয়নি। তখন এক বন্ধু বললেন, আগে এক কাজ কর, গল্পটা আগে লিখে ফেল। তারপর নাট্যরূপ দে। এরপর একটা গল্প লিখলেন। সবাই বললেন, পড়ে খুব ভালো লাগছে, কিন্তু নাটক হবে না। খুবই ব্যথিত হলেন। এভাবেই লেখক হওয়ার শুরুর ব্যর্থতার কথা ভক্তদের বলছিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক সমরেশ মজুমদার।

শুক্রবার বেলা ১১টায় সিলেটের সৃজনশীল বইয়ের ভান্ডার বাতিঘরের মঞ্চে  ‘বই প্রকাশের গল্প’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে ভক্তদের সঙ্গে আলাপচারিতায় লেখক হয়ে ওঠার গল্প শোনান তিনি। 

ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ে দীর্ঘ আড্ডায় সমরেশ মজুমদার বলেন, কলকাতার বিখ্যাত দেশ পত্রিকায় প্রথমবার পাঠানো তার লেখা ছাপা হওয়ার গল্পটিও। বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় একটি গল্প লিখে পাঠান তিনি। সাতদিন, একমাস এমনকি বছর পেরিয়ে গেলেও লেখাটা ছাপা হয়নি। বেশ কয়েকবার যোগাযোগের পর সম্পাদক লেখাটা ছাপা হবে আশ্বাস দিয়েছিলেন। আশ্বাস পেয়ে খুশিতে বন্ধুদের কফি হাউসে খাইয়েছিলেন। কিন্তু পরের সংখ্যায় সেটি ছাপা হয়নি।

তিনি বলেন, এতে খুবই রাগান্বিত হয়ে পাবলিক ফোন থেকে দেশ পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদক বিমল করকে কল করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করলাম। পরে সম্পাদক আমাকে দেখা করতে বলেন। গালিগালাজ করায় একা যেতে সাহস পাচ্ছিলাম না। পরে ১৫ জন বন্ধুকে নিয়ে সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করলাম। পরে কাগজে গল্পটা ছাপা হয়। কয়েকদিন পরে গল্পটার জন্য ১৫ টাকা সম্মানীর মানিগ্রাম এসেছিল।  সঙ্গে একটি চিঠিতে লেখা ছিল- ভবিষ্যতে ভালো কিছু লিখলে পাঠাবেন। ১৫ টাকা সম্মানী পেয়ে সেটাও বন্ধুদের খাওয়াতে হলো। সেই খাওয়ার লোভে বন্ধুরা তাকে আবারো লিখতে বলেন। সেই কফি খাওয়া ও খাওয়ানোর লোভ থেকেই সাহিত্যিক হিসেবে পদার্পণ করেন সমরেশ মজুমদার।

তিনি বলেন, প্রথমে কিছু ছোট গল্প লেখার পর ১০০ পাতার ধারাবাহিক উপন্যাস। কিন্তু আমি না করে দেই। আমাকে বলা হলো আমার জীবন থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে লিখতে। জীবন নিয়ে লেখার কথা ওঠে আসায় আবার অনুপ্রাণিত হই। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে লিখতে শুরু করি। প্রথম গল্প লিখে ১৫ টাকা পেলেও প্রথম উপন্যাস লিখে  এক হাজার টাকা সম্মানী পান বলে জানান এই জনপ্রিয় লেখক।

দীর্ঘ এই আড্ডায় বারবার উঠে আসে তার উপন্যাসত্রয়ী উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষ প্রসঙ্গ। 
উপন্যাসত্রয়ী নিয়ে তিনি বললেন, এই তিনটির মধ্যে প্রথম দুটি অনেকটা জোর করে লেখা। মন থেকে লেখেননি। বলা যেতে পারে, বাধ্য হয়েই লিখেছেন। উত্তরাধিকার প্রকাশের পর পাঠকদের আগ্রহের কথা ভেবে প্রকাশক সাগরময় ঘোষের নির্দেশে বাকি দুই পর্ব লেখা হয়।

লেখক ও সাংবাদিক সুমন কুমার দাসের পরিচালনায় বক্তব্য শেষে উপস্থিত লেখক পাঠকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন সমরেশ মজুমদার।

বাংলাদেশের নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ন আহমদ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হুমায়ন ছিল বহুরূপী। তার লেখার মধ্যে একটা প্রাণ ছিল, বহুরূপ ছিল। ঢাকায় আসলে তাকে খুব মিস করি। বাংলাদেশে আসা নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, একবার আমাকে বিমানবন্দরে পাস দেয়া হচ্ছিল না। কিন্তু হুমায়ূন আহমদ আমাকে রিসিভ করে সোজাসুজি নুহাশপল্লীতে নিয়ে আসেন। সেখানে একটানা সাতদিন থাকি। রাষ্ট্রযন্ত্রও হুমায়ূন আহমদকে সমীহ করতো বলে জানান এই গুণী লেখক।

ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে ‘সাতকাহনে’র দীপাবলির কথাও। বলা হয় অনিমেষ চরিত্রের কথাও।
লেখক বাদল সৈয়দের জন্মজয় ও সমরেশ মজুমদারের অপরিচিত জীবনযাপন বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাতিঘরের স্বত্তাধিকারী দীপঙ্কর দাশ।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। তিনি বাংলা সাহিত্যের এক নন্দিত লেখক। ইতিহাস চেতনার পাশাপাশি সমাজ ও জীবন বাস্তবতার অনন্য মিশেলে বাংলা সাহিত্যকে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য সব সাহিত্যসৃষ্টি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ