প্রথম এলিজাবেথের মা রানি অ্যানের অদ্ভুত যত তথ্য

প্রথম এলিজাবেথের মা রানি অ্যানের অদ্ভুত যত তথ্য

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৭ ১১ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৩ ১২ মার্চ ২০২০

অ্যানের প্রথম সন্তান কন্যা হবার পরে রাজা হেনরী তার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন-প্রতীকী ছবি

অ্যানের প্রথম সন্তান কন্যা হবার পরে রাজা হেনরী তার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন-প্রতীকী ছবি

ইতিহাস রঞ্জিত করেছে কালে কালে অনেক নারী। তারা তাদের নানা কাজের মাধ্যমে ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আজ আপনাদের যার কথা জানাবো তিনি অ্যান বোলেন। তিনি ছিলেন অষ্টম হেনরি ছয় স্ত্রীর মধ্যে সর্বাধিক বিখ্যাত। এছাড়াও তিনি ছিলেন প্রথম এলিজাবেথের মা।

অ্যান বোলেন ব্যভিচারের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এ রানিকে নিয়ে রয়েছে আরো অদ্ভুত তথ্য। যা হয়তো আপনার অজানা।

চলুন তবে আজ জেনে নিন অ্যান বোলনের আদ্যোপান্ত-     

অ্যান বোলেনের পূর্বপুরুষ ছিলেন টুপি বিক্রেতা

বোলেনের পরিবার নরফোকের বাসিন্দা ছিলেন। বোলেনের বাবা স্যার থমাস বোলিন ছিলেন লন্ডনের রাজসভাসদ এবং কূটনৈতিক। তবে তার পূর্বপুরুষ একসময় কৃষিকাজ করতেন। এমনকি তারা টুপি বিক্রেতা ছিলেন কেউ কেউ। ১৪৩০ এর দিকে বোলেনের এক পূর্বপুরুষ জেফ্রি বোলেন লন্ডনে আসেন। এরপর ১৪৩৫ সালের দিকে তিনি হয়ে ওঠেন লন্ডনের এক ধনী ও মর্যাদাশালী ব্যক্তি। এই জেফ্রি ১৪৫৭ন সালে লন্ডনের লর্ড মেয়র হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

যাদুকরী অ্যান বোলেন

অ্যানের বাবা ছিলেন রাজা অষ্টম হেনরির রাজসভাসদ এবং কুটনৈতিক। তিনি তার মেয়ে অ্যানকে ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এগিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন অ্যান যাতে রাজার বোনের পরিচারিকা হিসেবে কাজ করে। এতে করে সে রাজার সার্বক্ষণিক নজর কাড়তে সক্ষম হবে। অ্যান প্রাথমিকভাবে রাজাকে আকর্ষণ করতে সক্ষম হলেও লোলুপ রাজার দৃষ্টি পরে অ্যানের বড় বোন মেরীর ওপরে।

রাজা হেনরী ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন এবং তৎকালীন সময়ে নারীভোগী একজন রাজা। তার স্ত্রী ক্যাথেরিন একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় হেনরী খুবই কষ্ট পান। তাই তিনি তার উত্তরসূরি পুত্র সন্তানের জন্য পরবর্তীতে একের পর এক নারীর প্রতিই ঝুঁকেছিলেন। যদিও মেরী ছিলেন সদ্য বিবাহিত। তারপরও বাবা, চাচা এবং স্বামীর ইচ্ছায় তিনি রাজার রাজ্যে যেতে বাধ্য হন। তবে তিনি সেসময় অ্যানের প্রতিহিংসারও কারণ হন। রাজার কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জন্য অ্যান মেরীকেই দায়ী ভাবেন।

হেনরি অষ্টম এবং অ্যান বোলেনের মধ্যে প্রথম সাক্ষাত

মেরী বোলিন যখন অন্তঃসত্বা তখন একদিন অসুস্থ হওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শে তাকে বিছানায় শয্যা নিতে হয়। রাজার আসা যাওয়ায় নিষেধ করা হয়। মেরী এবং অ্যানের বাবা এবং চাচা আবারো আতংকিত হয়ে পড়েন এতে, রাজা মেরীর সংস্পর্শে না যেতে পেরে যদি অন্য নারীর প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তাই তারা এবার আবারো অ্যানকে রাজার দিকে এগিয়ে যেতে বলেন। তবে অ্যান তখন অন্য নারী। এবার তিনি বুঝেই গেছেন কী করে রাজাকে আকর্ষন করতে হবে। এবং তিনি এবার পুরোপুরি শোধ নেবেন। রাজাও ডুবে যান অ্যানের প্রেমে, কিন্তু অ্যান বারবার তাকে ফিরিয়ে দেয়। কারণ সে তার বোনকে পছন্দ করেছিল।

বারবার ব্যর্থ হয়ে রাজা উন্মত্ত প্রায়। অ্যান যা বলবে তাতেই সে তখন রাজী। অ্যান তখন রাজাকে তার প্রথম স্ত্রী ক্যাথেরিনকে ডিভোর্স দেয়ার প্রস্তাব দেয়। ক্যাথেরিনের কোনো দোষত্রুটি না থাকা সত্বেও হেনরী তাকে ডিভোর্স করতে বাধ্য হন। এরপর অ্যান তাকে বিয়ে করার শর্ত দেন। রাজা যখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন তখনই জানতে পারেন মেরী একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তবে তখন রাজা অ্যানের প্রেমে মশগুল। অ্যানের প্রতি তীব্র আকর্ষণের কারণে সে তখন মেরীকেও আর গ্রহণ করেননি। অ্যান এবং রাজা হেনরী গোপনে চার্চে বিয়ে করেন। তাকে রানির মুকুট পড়িয়ে দেয়া হয়। যদিও রাজ্যে তখন অ্যান যাদুকরী নামেই পরিচিত।

অ্যানের মা গুজব ছড়িয়েছিলেন যে তিনি হেনরি অষ্টমীর উপপত্নী ছিলেন।

অ্যান পাঁচজন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। শুধুমাত্র একটি পুত্র সন্তানের আশায়

অ্যান বোলেন ছিলেন নানা কারণে বিতর্কিত। এমনকি তাকে নিয়ে যে ইতিহাসবিদরা গবেষণা করেছেন তারাও দিয়েছেন বিতর্কিত তথ্য। অ্যানের মা ছিলেন এলিজাবেথ হাওয়ার্ড। অ্যান এবং তার বোন মেরী দুজনই ছিলেন রাজা অষ্টম হেনরির উপপত্নী। তবে অ্যানের মা একসময় দাবি করেন তার সঙ্গেও রাজার সম্পর্ক ছিল। এতে করে অ্যানের সঙ্গে তার বোনের পর মায়ের সঙ্গেও বিরোধ শুরু হয়।

অ্যান ছিলেন প্রথম রানি যাকে জনসম্মুখে শীরচ্ছেদ করা হয়

অ্যানকে ব্যাভিচারের জন্য রাজা অষ্টম হেনরি শীরচ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অ্যানের প্রথম সন্তান কন্যা হবার পরে রাজা হেনরী তার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন। এই কন্যা সন্তানই হচ্ছেন রানি প্রথম এলিজাবেথ। এরপর অ্যান দু’টি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। এতে রাজা হেনরী নিজেকে অভিশপ্ত ভাবতে শুরু করেন। তিনি অ্যানের সংস্পর্শ থেকে সরে আসতে শুরু করেন। এরপর অ্যানের পরিচারিকা জেন সিমোর প্রতি আকৃষ্ট হন রাজা। রাজার বিরহে অ্যান যেন পাগলপ্রায়। রাজাকে ফিরিয়ে আনার নানা চেষ্টা করতে থাকেন অ্যান। যে করেই হোক একটি পুত্র সন্তান চাই তার। না হয় রাজাকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না তার। এরপর অ্যান পাঁচজন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। শুধুমাত্র একটি পুত্র সন্তানের আশায়। এই পাঁচ পুরুষের একজন ছিলেন তার আপন ভাই লর্ড রকফোর্ড। তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখে ফেলে তার ভাইয়ের স্ত্রী। এরপর তিনিই রাজা হেনরীকে একথা জানিয়ে দেন। অ্যানকে এরপর ব্যাভিচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তার ভাই এবং তাকে জনসম্মুখে শীরচ্ছেদ করা হয়।

নিজের পরিচারিকাই হয়ে ওঠেন প্রতিদ্বন্দ্বী

অ্যান বোলেন ১৫৩৬ সালের প্রথম দিকে হেনরি এবং তার গৃহকর্মী জেন সিমোরের সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। তিনি সিমোরের গলায় রাজার একটি ছবি দেখেন। এতেই ক্ষিপ্ত হন অ্যান। সিমোরকে রাজার কাছ থেকে সরাতে নানাভাবে চেষ্টা চালাতে থাকেন। তবে শেষরক্ষা করতে পারেননি অ্যান।

রাজা অষ্টম হেনরি তৃতীয় স্ত্রী হয়েছিলেন জেন সিমোর। প্রায়ই অ্যান এবং জেন কলহে লিপ্ত থাকতেন। জেন সিমোর অ্যানের পরিচারিকা হলেও সম্পর্কে তারা ছিলেন চাচাতো বোন।

সূত্র: হিস্ট্রিএক্সট্রা

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে