প্রথমবার ব্যর্থ, পাঁচ বছর পর দ্বিতীয় চেষ্টায় কাশিমপুর থেকে পালালো আসামি

প্রথমবার ব্যর্থ, পাঁচ বছর পর দ্বিতীয় চেষ্টায় কাশিমপুর থেকে পালালো আসামি

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৮ ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১১:৫৪ ৮ আগস্ট ২০২০

গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগার

গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগার

প্রথম চেষ্টায় জেল থেকে পালাতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় চেষ্টায় কাশিমপুর থেকে পালালো যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ফাঁসির আসামি থেকে সাজা সংশোধন করে তাকে যাবজ্জীবন দেয়া হয়।

গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া আলোচিত এই কয়েদির নাম আবু বকর সিদ্দিক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অন্য কয়েদিদের লকআপের পর সেখানে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কারা কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি কৌশলে পালিয়েছেন।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গতকাল শুক্রবার কারা অধিদফতর ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তারা হলেন- আহাম্মদ আলী, হক মিয়া, মনিরুল ইসলাম, আলী নূর, সজীব হোসাইন ও আনোয়ার হোসেন। বিভাগীয় মামলা হয়েছে সর্বপ্রধান কারারক্ষী আবুল কালাম আজাদ, কারারক্ষী আবদুর রউফ খান, ইউসুফ খান, রাকিবুল হাসান, শওকত আলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে।

কাশিমপুর-২ কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহানারা বেগম জানান, আবু বকর সিদ্দিকের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আবাদ চণ্ডিপুর গ্রামে। বাবার নাম তেছের আলী গাইন। ২০১১ সালের ১৫ জুন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফাঁসির আসামি হিসেবে তিনি কাশিমপুরে আসেন। ২০১২ সালের ২৭ জুলাই তাঁর সাজা সংশোধন করে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্দিদের গণনাকালে (লকআপ) একজন আসামি কম পাওয়া যায়। তখন দেখা যায়, আসামি আবু বকর সিদ্দিক নেই। পরে কারাগারের ভেতরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও পানির লাইনে কাজ করতে পারার কারণে আবু বকর সিদ্দিককে দিয়ে কারাগারে বিদ্যুতের কাজ করানো হতো। বৃহস্পতিবারও তিনি বিদ্যুতের কাজের জন্য ল্যাডার (মই) নিয়ে কাজ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই মই দিয়েই তিনি কারাগারের ১৮ ফুট উঁচু দেয়াল বেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছেন।

এর আগে ২০১৫ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায় জেল থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন আবু বকর সিদ্দিক। কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানান, সেবার পালানোর জন্য আত্মগোপন করে সেল এলাকায় সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজি শেষে পরদিন তাকে ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

আইজি প্রিজনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা জানান, অতিরিক্ত আইজি প্রিজনসকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারা শনিবার কাশিমপুর কারাগারে যাবে। সেখানে ভিডিও ফুটেজ দেখা হবে। যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অন্য ছয়জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কয়েদি আবু বকর সিদ্দিককে আমরা খুঁজছি। সাতক্ষীরায় তার বাড়িতে লোক পাঠানো হয়েছে। সেখানকার ডিসি-এসপিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস