Alexa প্রতিষ্ঠাকাল থেকে নেই উপ-উপাচার্য  

কুবি

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে নেই উপ-উপাচার্য  

কুবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৪৭ ১০ জুলাই ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

২০০৬ সালে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৩ সালে এই আইনের ১১ ধারা সংশোধন করে উপ-উপাচার্যের পদ সৃষ্টি করা হয়। পদসৃষ্টির পর
প্রায় ৬ বছর পার হয়ে গেলেও এই পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

এদিকে ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কুন্ড গোপীদাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই বছর ধরে শূন্য রয়েছে এই পদটিও। শীর্ষ এই দুইটি পদ ছাড়াও অধিকাংশ দপ্তরের শীর্ষ কমকর্তার পদগুলো চলছে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে উল্লেখ থাকা অনেক পদেরই বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে পরিচালক
(গবেষণা ও সম্প্রসারণ), পরিচালক (বহিরাঙ্গন) এবং পরিচালক (শরীরচর্চা শিক্ষা) পদ সমূহের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এ পদগুলোতে কোন কর্মকর্তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে এ পদসমূহ শূন্য থাকায় অনেকসময় প্রশাসনিক জটিলতার তৈরী হয়। এই পদগুলো ছাড়াও পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, জনসংযোগ কর্মকর্তার পদে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে কার্যক্রম চলছে। অর্থ ও হিসাব দপ্তরে কামাল উদ্দিন ভুইয়াকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ এমদাদুল হককে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

লাইব্রিয়ান পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা নেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার মো: মজিবুর রহমান মজুমদারকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে লাইব্রিয়ান পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে উপ-উপাচার্য এবং কোষাধক্ষ্যের পদসহ গুরুত্বপূর্ণ এ পদগুলো শূন্য থাকায় অনেকসময় প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেয়। দীর্ঘ দুই বছর ধরে কোষাধক্ষ্যের পদ শূণ্য থাকায় এর কার্যক্রম পালন করছেন উপাচার্য। এতে উপাচার্যের উপর যেমন
চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্য দিকে উপাচার্য না থাকলে এ দপ্তরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

বর্তমান উপাচার্যের পূর্ববর্তী উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলী আশরাফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর নিয়োগে দুই মাস বিলম্ব হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২ মাসের বেতন ভাতা আটকে ছিলো।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, গবেষণা ও সম্প্রসারণের জন্য খুব শিগগিরই পৃথক একটি দপ্তর চালু করে গবেষণায় অভিজ্ঞ একজন শিক্ষককে এখানে দায়িত্ব প্রদান করা হবে, বহিরাঙ্গনের জন্যও পরিচালক নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি প্রকিয়াধীন। এছাড়া অন্য যে পদ গুলোতে বর্তমানে কর্মকর্তারা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছে তার মধ্যে অনেক পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে এবং বাকী পদগুলোতেও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর কোষাধক্ষ্য এবং উপ-উপাচার্য নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই কোষাধক্ষ্য নিয়োগ দেয়া হবে।

উপ-উপাচার্য ও কোষাধক্ষ্য নিয়োগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এই দুইটি পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য আমি শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে বারবার বলেছি, বিশেষ করে কোষাধক্ষ্য পদে কাউকে
নিয়োগ দিলে আমার উপর চাপ কমতো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ