Alexa প্রতিবন্ধী বলে থেমে নেই মাহিন 

প্রতিবন্ধী বলে থেমে নেই মাহিন 

কাজী মফিকুল ইসলাম আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪১ ১৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২৩:২৮ ১৭ নভেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

প্রতিবন্ধকতা থাকলে যুদ্ধে যাওয়া যাবে না। এমন তো কোনো কথা নেই। তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. মাহিন মিয়া। তার এই যুদ্ধে শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবাও রয়েছেন।

রোববার বাবার হাত ধরেই পরীক্ষার কেন্দ্রে আসে মাহিন। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে আবার বাবার হাত ধরেই বাড়ি ফিরে যায়।

মহিন আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। নাছরিন নবী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে সে। 

সে দেবগ্রাম এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. মজিবুর রহমান ও শারমিন আক্তারের তৃতীয় ছেলে। 

মহিন বলেন, আমি পড়াশুনা করে আদর্শ মানুষ হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। এ জন্য আমি সবার কাছে দোয়া কামনা করছি। 

তার বাবা  মো. মুজিবুর রহমান বলেন, মাছুম ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনার প্রতি তার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।  পৈতৃক সম্পত্তি বলতে দেড় শতক জায়গা ছাড়া কিছুই নেই। ঋণের উপর ক্ষুদ্র ব্যবসা করে দিনাতিপাত করছি। পড়াশুনার খরচ চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে । 

মা শারমিন আক্তার বলেন, অভাব অনটনের সংসার তাই ছেলেকে কোনো প্রাইভেট পড়াতে পারিনি। নিজের চেষ্টা আর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় সে পড়াশুনা করছে। 

দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বাবলি বলেন, সে পড়াশুনায় খুবই ভালো। পড়াশুনায় যাতে কোনো প্রকার সমস্যা না হয় তার প্রতি সব শিক্ষকের দৃষ্টি ছিল। 

আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তকর্তা নুরজাহান বেগম বলেন, মহিন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হওয়ায় পরীক্ষায় তাকে আধাঘণ্টা সময় বেশি সময় দেয়া আছে। সেইসঙ্গে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের থেকে তাকে বিশেষ সুবিধা দেয়া আছে। নিয়মিত ভাতাও পাচ্ছে সে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এমকেএ