Alexa প্রতারকের ফাঁদে পড়ে হাহাকার 

প্রতারকের ফাঁদে পড়ে হাহাকার 

জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৩ ১৬ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২১:২০ ১৬ অক্টোবর ২০১৯

অভিযুক্ত

অভিযুক্ত

ভালো কাজ ও মোটা অংকের বেতনের আশ্বাসে ইরাকে পাড়ি দিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবনগরের কয়েকজন যুবক। সেখানে নানা জটিলতায় আটকে থাকা যুবকদের জন্য হাহাকার করছেন পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মিলছে না কোনো সঠিক সুরাহা।

ভুক্তভোগী আকমল সাঈদের বাবা জীবননগর পৌর শহরের হাইস্কুল পাড়ার আজাদ হোসেন জানান, উপজেলার উথলী ইউপির সেনেরহুদা বসুতিপাড়ার মমিন উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানা। সে ভালো কাজ ও মোটা অংকের বেতন আশ্বাসে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ছেলে সাঈদকে ইরাকে পাঠায়। সেখানে যাওয়ার পর কাগজে ত্রুটি থাকায় ইমিগ্রেশন জটিলতা ও নির্ধারিত রেস্টুরেন্টে কাজের সুযোগ পায়নি। সাঈদ দেশে ফিরতে চাইলে রেস্টুরেন্টের মালিক ৫০০ হাজার ডলারের বিনিময়ে তাকে কেনার দাবি করে। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করলে দেশে ফিরতে দেবে না বলে জানায় রেস্টুরেন্ট মালিক। এরইমধ্যে ওই দেশের পুলিশ অবৈধভাবে থাকার অভিযোগে সাঈদকে আটক করে। সেই খবর মাসুদকে দেয়া হয়। সে ছেলে ও টাকার ফেরতের সমঝোতার আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

শুধু আকমল সাঈদই নয়, মাসুদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বকুলের ছেলে সোহেল ও আরিফ।

তারা জানান, মাসুদ রানা ও তার বাবা মমিন উদ্দিন ও স্থানীয় ভুয়া ক্রাইম রিপোর্টার বেকার যুবকের বিদেশে ভালো আয়ের লোভ দেখায়। সেই লোভে পড়া যুবকরা ইরাকে গিয়ে বেকায়দায় পড়ছে। সেখানে লোক পাঠিয়ে অভিযুক্তরা আলিশান বাড়ি করেছে। তবে অন্যদিকে বিদেশে বিপদে পড়া যুবকরা হতাশায় ও তাদের পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। 

তারা আরো জানান, মাসুদ রানার খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত অনেকে। মাসুদ চার লাখ টাকা করে নিয় আমাদের ইরাকে পাঠায়। তার দেয়া ভিসায় ইরাকে কাজের কোনো বৈধতা নেই। তাছাড়া ওয়ার্ক পারমিটটিও ভুয়া। প্রতারণার জন্য মাসুদের শাস্তির দাবি করছেন তারা।    

অভিযুক্ত মাসুদ রানা বলেন, বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা নিয়েছি। তাদের ইরাকে পাঠিয়েছি। তবে সাময়িক সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। 

ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটের কথা জিজ্ঞেস করলে দাম্ভিকতার সুরে মাসুদ রানা বলেন, পারলে কিছু করে নিতে বলেন।

উথলী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সালিশ ডাকা হয়। কিন্তু বিচারের দিন এলে সে এলাকা ছেড়ে পালায়। তাছাড়া তার পাঠানো অনেক ছেলে দেশে ফেরত এসেছে এবং কিছু ছেলে ওই দেশে আটক হয়েছে। 

জীবননগর থানার ওসি (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, মাসুদ রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/এআর