প্রকৃতি ফিরেছে, জাহাঙ্গীরনগরে শেয়াল ও গুইসাপের বিচরণ

প্রকৃতি ফিরেছে, জাহাঙ্গীরনগরে শেয়াল ও গুইসাপের বিচরণ

জাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১১ ২৮ জুন ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসবাসী ছাড়াও বহিরাগত কিংবা দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্যাম্পাসজুড়ে এখন রাজ্যের নিস্তব্ধতা।

পুরো ক্যাম্পাসে মানুষ বলতে বিভিন্ন ভবনের সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত রক্ষী ছাড়া আর কারো দেখা নেই।

এই সুযোগে ক্যাম্পাসের প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে তার হারানো ঐতিহ্য। ক্যাম্পাসে কিছুদিন আগেও দুর্লভ হয়ে যাওয়া শেয়াল ও গুইসাপের দেখা মিলছে এখন হর-হামেশাই। জঙ্গল ছেড়ে তারা কখনো নেমে আসছে পিচঢালা পথে। ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসের উপর তাদের এখন অবাধ বিচরণ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরই দেখা মিলতো গুইসাপের। তবে জঙ্গল-গাছপালা কমতে থাকা ও মানুষের উৎপাত বাড়ার সঙ্গে তাদের সংখ্যাও কমতে শুরু করে। ফলে গুইসাপের দেখা মেলাটাও অনেকের কাছে বিলাসিতা হয়ে গিয়েছিল।

তবে করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ তিনমাসের বেশি সময় যাবৎ ক্যাম্পাস বন্ধের কারণে জনসমাগম না থাকায় আবারো নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে তারা। যেখানে আগে ছিল মানুষের সমাগম সেখানেই দিনভর খাদ্য অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় তাদের। রাস্তার পাশের জঙ্গল থেকে কখনো তারা বেরিয়ে পড়ছে পিচঢালা পথ ধরেই। এই স্বাধীনতাই হয়ত তারা খুঁজে এসেছে এতদিন।

কয়েকবছর আগেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যা নামতেই শোনা যেত শেয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক। তবে বেশকিছু বছর এটি দূর্লভ তকমা পেয়েছে। ক্যাম্পাসে শেয়াল দেখাটা যেখানে কয়েকমাস আগেও ছিল ভাগ্যের ব্যাপার! এখন সেই শেয়ালের বিচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খুব সহজেই চোখে পড়ছে।

করোনাভাইরাস যেন প্রকৃতিকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। ক্যাম্পাসে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় শেয়ালও বেরিয়ে পড়ছে ফাঁকা ক্যাম্পাসের অলিতেগলিতে। দীর্ঘসময় ঘাস না কাটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ঘাস বড় হয়ে ধান ক্ষেতের মতো দেখা যায়। আর এসবের মাঝেই বিচরণের মাঝে কখনো কখনো পথের মাঝেই চলে আসছে তারা।

ক্যাম্পাসের গাছগুলো সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। সবুজ পাতার সঙ্গে লাল, হলুদ, সাদা রঙের বাহারি ফুলের অনন্য মিতালি। যে দৃশ্য বিমোহিত করবে যে কাউকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলজুড়ে থাকা লেক ও জলাশয়গুলোও ভরে উঠেছে লাল-সাদা শাপলা ও সবুজ কচুরিপানাতে। লেকের স্বচ্ছ পানি ও এসবের সমন্বয়ে তা নিয়েছে মায়াবি রূপ। পাখি আর কাঠবিড়ালিরাও গাছ ছেড়ে নেমে এসেছে পিচঢালা পথে। আগের মতো  উৎপাত যে আর নেই। এ আঙিনার মালিক যেন তারাই।

যেখানে প্রকৃতির এত আয়োজন সেখানেই কোথাও কেউ নেই। কোলাহল বলতে পাখ-পাখালির হাকডাক। মাঝে মাঝে দুয়েকটি জনমানুষের দেখা মিললেও তাতে কি আসে যায়!

স্বাভাবিক সময়ে কাকডাকা ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকত জাহাঙ্গীরনগরের ৬৯৭ একরের ক্যাম্পাস। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ক্যাম্পাসজুড়ে এখন শুধুই শূন্যতা ও সুনশান নীরবতা। আর এ সুযোগেই ৬৯৭ একরের বুকে প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরেছে বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞররা। আবার জনসমাগমের সঙ্গে মানুষের উৎপাত শুরু হলে শেয়াল, গুইসাপ, কাঠবিড়ালি ও নাম না জানা পাখিদের হয়ত এভাবে আর দেখা যাবে না বলে জানাচ্ছেন তারা।

তারা বলছেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গল ও বড় বড় ঘাসের জমেছে। যার ফলে প্রাণীরা এসবের মাঝে নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে পেয়েছে। এছাড়া কোথাও এখন তাদের প্রতি মানুষের উৎপাত নেই।  মানুষের উৎপাতই এতদিন এসব প্রাণীদের দমিয়ে রেখেছিল। দূষণ ও উৎপাত কমার কারণে এখন প্রাণীরা অবাধে বিচরণ করছে।

ক্যাম্পাস খোলার পর মানুষের উপস্থিতি ও উৎপাত শুরু হলে তখন আবার এসব প্রাণী কম দেখতে পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৮ মার্চ থেকে একাডেমিক ও ২২ মার্চ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে কয়েকধাপে ছুটি বাড়ানোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখা হয়। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৬ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর