Alexa প্যারিসে এক হাজারের বেশি শরণার্থীকে উচ্ছেদ করলো পুলিশ

প্যারিসে এক হাজারের বেশি শরণার্থীকে উচ্ছেদ করলো পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০০ ৮ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:০৫ ৮ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহিত

ছবি: সংগৃহিত

উত্তরের প্যারিসের একটি অস্থায়ী শিবির থেকে এক হাজারের বেশি অভিবাসী এবং শরণার্থীকে উচ্ছেদের কাজ শুরু করেছে ফরাসী পুলিশ।

শিবিরটিতে মাসের পর মাস ধরে ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী তাঁবু বানিয়ে রয়েছেন শরণার্থীরা।

চলতি সপ্তাহে শরণার্থী নিয়ে নিজের কড়া অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল মাক্রঁ। তার পরই বৃহস্পতিবার সকালে পোর্টে দে লা চ্যাপেলে পৌঁছয় পুলিশের বিশাল বাহিনী।

বাসে করে আপাতত জিমন্যাসিয়াম বা অস্থায়ী বিভিন্ন ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই শরণার্থীদের। সামান্য কিছু জিনিস আঁকড়ে লাইনের প্রথম দিকে দাড়িয়ে ছিল মহিলা ও শিশুরা। তাদের পরেই শান্তভাবে দাড়িয়ে ছিল পুরুষরা।

উত্তরাঞ্চলীয় প্যারিসের সাইন-সেন্ট-ডেনিসে ফুটপাত, ব্রিজ ও খালের নীচে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি মানুষ ঝুপড়ি বানিয়ে থাকছেন। সেখানে খাওয়ার জলটুকুও মেলে না। 

সেখানে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, স্থানগুলোতে ইঁদুরের উপদ্রবে টেকা যায় না। নেই জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও। ওই দিন যাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকের শরণার্থী তকমা থাকলেও তারা স্থায়ী আস্তানা পাননি।

সুদানের এমন এক ব্যক্তি ফ্রান্স ইনফো রেডিওকে জানান, এটা খুবই ভয়াবহ জীবন। তাদের ফুটপাতে ঘুমাতে হয়। কখনো খাদ্যের যোগান হয় আবার কখনো তাও জটে না। 

তিনি আরো জানান, তাদেরকে হয়তো এখন কোনো জিমন্যাসিয়ামে একটি অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে নিয়ে যাবে। তবে তারা এটা চাই না। তাদের একটা স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। তারা যেন নিজেদের কর্মস্থল গড়ে তুলতে পারে সেজন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার দাবি করেন। এতে তারা সসম্মানে জীবন যাপন করতে পারবেন।

যদিও শরণার্থী ক্যাম্পের এই সমস্যা নতুন নয়। গত চার বছরে ৩০ বারেরও বেশি এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই কিছু দিন ফাঁকা থাকার পর নতুন কয়েকশো শরণার্থী এসে সেখানে ক্যাম্প গড়েছেন।

স্থানীয় রাজনীতিবিদরা বলেছেন সমস্যাটি হলো রাজ্য প্রক্রিয়াধীন আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান এবং সুযোগ-সুবিধা দেয় না।

প্যারিসের মেয়র অ্যানে হিদালগোর দাবি, মাক্রঁ শরণার্থীদের যথাযথ আশ্রয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ