পোড়া শরীর নিয়ে মডেলিং!
Best Electronics

পোড়া শরীর নিয়ে মডেলিং!

প্রকাশিত: ১৪:৪৩ ১১ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৪:৪৩ ১১ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চার বছর বয়সে জনি কুইন মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেন। আগুনের লেলিহান শিখায় তার শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়ে যায়। ঠিক সময় তার বড় বোন সেই আগুনে ঝাঁপ দিয়ে স্নেহের ছোট ভাইটিকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে জনির বয়স ১৮। বিগত ১৪ বছর নারকীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন পার করেছে সে। ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৮০টি সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে তার শরীরে। তার পোড়া শরীরটি যেন সেই ভয়ার্ত মুহূর্তকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে দমে যাননি জনি। মডেলিংয়ের স্বপ্ন নিয়ে নিজেকে গড়ে তুলছেন। সৌন্দয্য নয় বরং জ্ঞান-বুদ্ধিই তার পুঁজি বলে সম্প্রতি বারক্রফট টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘মনস্টার’ নামক এই কিশোর জানিয়েছেন অতীতের বিস্মৃতি আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন প্রসঙ্গে-

যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসির ব্রাইটন শহরে বসবাসরত জনি জানান, ‘যখন বাইরে যাই, প্রত্যেকেই বাঁকা চোখে তাকায়। বিষয়গুলোতে যদিও অভ্যস্ত। তবে এই অভ্যাসটা করতেও মনের সঙ্গে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। দূর্ঘটনায় শরীর যেভাবে পুড়ে গেছে তাতে বেঁচে থাকার কথা ছিলো না। ঈশ্বর দ্বিতীয় জীবন দান করেছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আর তাই পোড়া শরীর নিয়েই মডেলিংয়ের স্বপ্ন দেখছি। কর্মের মাধ্যমে অন্যদের চোখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। ”

ভয়ঙ্কর সেই দিনটিতে ছোট্ট জনি বাগানের পিছনের একটি ঘরে খেলছিলো। পাশেই একটি মোমবাতি জ্বলছিলো হঠাৎ তাদের পোষ্য কুকুর সেটি ফেলে দেয় এবং সেই মোমবাতি থেকেই ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জনির চিৎকার শুনে তার বোন দৌড়ে এসে দেখে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে তার মধ্যে ছোট্ট জনি চিৎকার করছে। দিশেহারা হয়ে পড়েন জনির বোন লিয়া। আগুনে ঝাঁপ দিয়ে তিনি ভাইকে উদ্ধার করেন।  তবে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। কারণ ততক্ষণে জনির শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে লিয়া বলেন, সে দিনের ঘটনাটি মনেই করতে চাই না। জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি দিন ছিলো সেটি। তবে ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা, ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে পেরেছি।’ 

জনি বলেন, আমার পুরো শরীর পোড়া। হাত, পা, মুখ, বুক, পেট এমনকি গোপনাঙ্গও। এভাবে কোনো মানুষ বাঁচতে পারে না। প্রতিদিন নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। আয়না দেখতে ভয় পাই। নিজেকে অজান্তেই প্রশ্ন করি- কেনো বেঁচে থাকলাম? কেনো মারা যাই নি? ১০ বছর পযর্ন্ত শারীরিক কষ্ট ততটা অনুভব করিনি। তবে এরপর থেকে যন্ত্রণায় কাবু হতে থাকি। যদিও তখন মনোবল হারিয়েছি। কারণ প্রতি মুহূর্তে মনে হত আমি অন্যদের থেকে আলাদা। সবে মাত্র কৈশরে পা দিয়েছি। তখন নিজের প্রতি ঘৃণা কাজ করত। কোনো বন্ধু ছিলো না। সবাই আমাকে ভয় পেতো।

মডেলিংয়ের স্বপ্ন প্রসঙ্গে জনি বলেন, ‘আমি দেখতে মোটেও সুন্দর না তা জানি। তবে চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। এজন্য আমি ফিটনেসের প্রতি নজর দেয়া শুরু করলাম। এর থেকে অ্যানোরেক্সিয়ায় (খাবারে অনীহা) আক্রান্ত হলাম। ভাবতাম একটু খেলেই বোধ হয় ওজন বেড়ে যাবে। খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম প্রায়। অনেকটা স্বার্থপর হয়ে উঠি। পরিবারের কথা না ভেবে নিজেকে নিয়েই ভেবে চলেছিলাম।’

এরপর জনি হতাশ না হয়ে বরং কলেজে ভর্তি হলো এবং সে ভাবলো নিজেকে খাট করে দেখার কোনো কারণ নেই। জনি বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস না থাকলে পিছিয়ে পড়বো ভেবে নিজেকে সাহস জুগিয়েছি। অনুধাবন করেছি আত্মবিশ্বাসী হওয়াটাও একটা অভ্যাসের বিষয়। এরপর বিশ্বাস শুরু করলাম রুপ নয় বরং গুণই মানুষকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।’

বর্তমানে জনি ‘কারেজ ফেসেস ফাউন্ডেশন’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। যেখানে শারীরিকভাবে ভিন্ন ব্যক্তিদের মডেলিং প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। শারীরিক ও মানসিক পার্থক্য নিয়ে জনগণের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এবং ন্যায্য চিকিত্সা ও সমান সুযোগের উন্নয়নে ট্রিশ মরিস কর্তৃক এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করা হয়। জনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটি আমার স্বপ্ন এবং অনুভূতিগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করে চলেছে। এখানে শুধু আমিই নয় আরো অনেক ভিন্ন ব্যক্তিত্ব রয়েছে। যাদেরকে দেখে অনুপ্রেরণা পাই। সচেতনতার মাধ্যমে মানুষের মন পরিবর্তন করতে চাই যেনো তারা নিজ চেহারার জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে।’

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড

Best Electronics