পেয়ারা ও কুল চাষে ঘুরছে ভাগ্যের চাকা

পেয়ারা ও কুল চাষে ঘুরছে ভাগ্যের চাকা

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:১৫ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:২০ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের চৌগাছায় হাইব্রিড জাতের কুল ও থাই পেয়ারা চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে কৃষক আশাদুল ইসলামের। 

বর্তমানে তিনটি বাগানে ১৯ বিঘা থাই পেয়ারা ও ৮ বিঘা জমিতে হাইব্রিড বাউ কুলের চাষ রয়েছে তার। ১৩ বছর ধরে থাই পেয়ারা ও বাউকুলের চাষ করে আসছেন উপজেলার হাকিমপুর ইউপির মাঠচাকলা গ্রামের ছাব্দার বিশ্বাসের ছেলে আশাদুল ইসলাম। 

দীর্ঘদিন ধরে চাষ করেও কাঙ্খিত সাফল্য না পেলেও এ বছর গোল্ডেন-৮ জাতের থাই পেয়ারা ও বাউকুলে তার ভাগ্যের চাকা বদলে দিয়েছে। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ লাখ টাকার পেয়ারা ও ৮ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন তিনি।

গ্রামের কর্মঠ যুবকদের মধ্যে আশাদুলের সুনাম রয়েছে। ১৩ বছর ধরে পেয়ারা ও কুল চাষ করেও কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছিলেন না তিনি। প্রতিবছরই লাভ হলেও কাঙ্খিতভাবে লাভবান হচ্ছিলেন না তিনি। পরে গোল্ডেন-৮ জাতের থাই পেয়ারার চাষ করে ভাগ্য বদলে যায় তার।

হাকিমপুর বাজারে রয়েছে আশাদুলের একটি আড়ৎ। যার নাম আশাদুল ফল ভান্ডার। সেখান থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকার ওয়াইজঘাট, নারায়ণগঞ্জ, যাত্রাবাড়ি, কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্নস্থানে কুল ও পেয়ারা বাজারজাত করেন তিনি।

আশাদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পেয়ারা ও কুল আবাদ করেও লাভবান না হওয়ায় পরে গোল্ডেন-৮ জাতের পেয়ারা চাষ করি। 

চলতি বছর প্রায় ২৮ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছি। আর কুল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকার। সফলতার কারণ সম্পর্কে আশাদুল জানান, ঠিকমত পরিচর্যা, সঠিক সময়ে সার ও ওষুধ প্রয়োগের ফলে ফল আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো পলিপ্যাক দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হয়। আগে পেয়ারায় পলিপ্যাক দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হতো। এখন বাউকুলও পলিপ্যাকে মুড়িয়ে দেয়া হয়। তাতে পোকামাকড় ও পাখিতে কুল ও পেয়ারা নষ্ট করতে পারে না। 

আশাদুল বলেন, তিনটি বাগানে ১৯ বিঘা পেয়ারার আবাদ রয়েছে। এছাড়া একটি আট বিঘা কুলের বাগানে পরিচর্যা ও কুল-পেয়ারা সংগ্রহ করে বাজারজাত করণের কাজে ৫০ থেকে ১০০ জন শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হয়। 

এ বিষয়টি সবচেয়ে ভাল লাগে যে ১ শ জন মানুষের কর্মসংস্থান করছি। তাছাড়া নিজেও লাভবান হচ্ছি। 

তিনি বলেন, এসব চাষে আমাদের কৃষি অফিসের কোনো সহায়তা লাগে না। কৃষি অফিসের লোকজন আসেনও না। অন্য চাষিদের নিকট থেকে পরামর্শ নিয়েই চাষাবাদ করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/আরআর