Alexa পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদে রাজা, তখনো দাঁত গজায়নি তাদের (পর্ব-১)

পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদে রাজা, তখনো দাঁত গজায়নি তাদের (পর্ব-১)

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:১৪ ১৩ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১১:৪৪ ১৪ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একটি শিশু কি কখনো রাজ্য ভার নিতে পারে! সম্রাট বা রাজার মতো পদের অধিকারী যিনি হবেন, তিনি হবেন সাধারণত মধ্যবয়সী, তার চেহারার মাঝে বুদ্ধিদীপ্ততা ও পরিপক্বতার ছাপ থাকবে। কিন্তু, ইতিহাস বলে, মানবজাতির ইতিহাসে এমনো অনেকে রাজা কিংবা সম্রাট হয়েছেন, যাদের দাঁত তখনো গজায়নি, এমনকি মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে কেবলমাত্র পৃথিবীর আলো দেখা মানুষের নামও রয়েছে এই তালিকায়। তেমনই কিছু বাচ্চা-রাজার সাথেই পরিচিত হবো আমরা আজ।

উগান্ডার রাজা ওয়ো

নাম তার ‘ওয়ো’। উগান্ডার তোরো সাম্রাজ্যের রাজা তিনি। মাত্র সাড়ে ৩ বছরে তোরো রাজ্যের রাজা হন। নিশ্চয়ই এই রাজার নাম মাত্র এক অক্ষরের দেখালেও পুরো নাম উচ্চারণ করতে গেলে দাত ভেঙে যাবার দশা হবে। চতুর্থ রুকিরাবাসাইজা ওয়ো নয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি- এটা হলো তোরোর রাজা ওয়োর পুরো নাম! ১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল রাজা তৃতীয় প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো ওলিমি এবং রানী বেস্ট কেমিগিসা কাবোয়োর ঘর আলো করে জন্ম নেন ওয়ো। ১৯৯৫ সালে যখন তিনি তোরো রাজ্যের সিংহাসনে বসেন, তখন তার বয়স মাত্র সাড়ে ৩ বছর! রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের সময় বাচ্চা রাজা বারবার সিংহাসন থেকে পিছে নেমে যাচ্ছিলেন। এত মানুষ দেখে ভয়ে দৌড় দিয়ে মায়ের কোলে আশ্রয় খুঁজছিলেন! সে যা-ই হোক, সেদিনের সেই বাচ্চা ওয়ো কিন্তু আজও আছেন ১৮০ বছরের পুরানো তোরোর রাজা হয়েই। রাজ্যটির দ্বাদশ এ রাজার আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে এর ২০ লাখ জনতা।

চীনের সর্বশেষ সম্রাট পুয়িচীনের সর্বশেষ সম্রাট পুয়ি

বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী রাষ্ট্র চীনের সর্বশেষ এ সম্রাট বয়সের দিক থেকেও ছিলেন অনেক ছোট। ১৯০৮ সালে যখন দেশটির শাসনভার তার হাতে ন্যস্ত হয়, তখন তার বয়স মাত্র ২ বছর! চীনের এই রাজার নাম পুয়ি। মাত্র দুই বছর বয়সে রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের সময় তার বাবাই কোলে করে তাকে সিংহাসনের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাচ্চা সম্রাট ভয় পেয়ে এলোপাথাড়ি লাথি-ঘুষি আর কান্নাকাটি করেই কাটিয়ে দেয় পুরোটা সময়। তার বয়স যখন মাত্র ছ’বছর, তখনই বিদ্রোহের কবলে পড়ে দেশটি, অবসান ঘটে রাজতন্ত্রের, প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রিপাবলিক অফ চায়না’। ফলে ক্ষমতার স্বাদ পাবার আগেই, সম্রাট হবার মাহাত্ম্য বোঝার আগেই তাকে সবকিছু ত্যাগ করতে হয়। ক্ষমতা হারালেও বিলাসবহুল জীবনযাপনের অনুমতি ছিলো পুয়ির। তাই বেইজিংয়ের নিষিদ্ধ নগরীতেই সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাতে থাকেন তিনি। যখনই তিনি কোথাও হাঁটতে বেরোতেন, তখনই তার সাথে থাকতো বেশ কয়েকজন খোঁজা ভৃত্য, যারা সম্রাটের জন্য দরকারি ওষুধ, চা এবং কেক সাথে নিয়ে ঘুরতো। 

কালক্রমে এই নিষিদ্ধ নগরীতে থাকার অধিকারও হারিয়ে ফেলেন পুয়ি। জীবন বাঁচাতে তখন তিনি আশ্রয় নেন জাপানে। তার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়গুলো একটির চেয়ে আরেকটি যেন বেশি চমক জাগানিয়া। জাপান-নিয়ন্ত্রিত চীনের একটি প্রদেশের সম্রাট হন পুয়ি। তবে মূল ক্ষমতা ছিলো জাপানের হাতেই। তিনি ছিলেন কেবলই তাদের হাতের পুতুল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুয়ি ধরা পড়েন সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে। পরবর্তী পাঁচ বছর তাকে কাটাতে হয় সাইবেরিয়ায়। সেখান থেকে চীনে ফিরিয়ে এনে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তাকে নিক্ষেপ করা হয় কারাগারে। প্রায় এক দশক পর মুক্তিলাভ করেন তিনি। এরপর থেকে জীবনের বাকিটা সময় বেইজিংয়ের একটি বাগানে মালী হিসেবেই কাটিয়ে দেন তিনি। অবশেষে ১৯৬৭ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমান দুর্ভাগা এই সাবেক শিশুসম্রাট। সিনেমার গল্পকেও হার মানানো তার জীবনের এই কাহিনীর উপর ভিত্তি করে বানানো ‘দ্য লাস্ট এম্পেরর’ সিনেমাটি অস্কার জিতে নেয়।

ফ্রান্সের তাহিতির রাজা তৃতীয় পোমারফ্রান্সের তাহিতির রাজা তৃতীয় পোমার

রাজা তৃতীয় তেরি’ইতারি’আ পোমার যখন তার বাবা রাজা দ্বিতীয় পোমারের মৃত্যুর পর তাহিতির সিংহাসনে বসেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৭ মাস! পোমারের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ব্রিটিশ মিশনারি হেনরি নট। রাজাকে কোলে করে পাথরের ভিত্তিমূলের উপর গদিমোড়ানো চেয়ারে বসানো হয়। তার সামনে একটি টেবিলে রাজমুকুট, বাইবেল এবং তাহিতির আইন সম্বলিত একটি বই রাখা ছিলো। পোমারের পক্ষে শপথ নেন সিনিয়র মিশনারি ডেভিস। রাজা তৃতীয় পোমার একেবারেই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার রিজেন্ট তথা রাজপ্রতিভূ হিসেবে ছিলেন তার মা রানী তেরি’ইতো’ওতেয়ারি তেরে-মো-মো, খালা এবং সৎমা তেরি’ইতারি’আ আরি’ইপায়িআভাহিন। অবশ্য খুব বেশিদিন রাজার আসনে থাকবার সৌভাগ্য জোটেনি পোমারের। মাত্র ছ’বছর বয়সে আমাশয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ইংল্যান্ডের রাজা ষষ্ঠ হেনরিইংল্যান্ডের রাজা ষষ্ঠ হেনরি

১৪২২ সালে ষষ্ঠ হেনরি যখন ইংল্যান্ডের সিংহাসনে বসেন, তখন তার বয়স ছিলো মাত্র নয় মাস। যখন তিনি শাসনক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নেন, ততদিনে দু’টো ক্ষমতাধর পরিবারের মাঝে সিংহাসনের দখল নিয়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গিয়েছে: ল্যাঙ্কাস্টার (এটা ছিলো হেনরির পরিবার) এবং ইয়র্ক। এ যুদ্ধটি ওয়্যার অফ রোজেস নামে পরিচিতি লাভ করে। শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ হেনরির পক্ষ অবশ্য পরাজয় বরণে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে তাকে বন্দী করা হয়। টাওয়ার অফ লন্ডনে ৫০ বছর বয়সে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

সোয়াজিল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় সভুজা ও তার মাসোয়াজিল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় সভুজা

নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখার আগেই একটি রাজ্যের দায়িত্ব চেপে বসেছিলো রাজা দ্বিতীয় সভুজার কাঁধে। কারণ, মাত্র ৪ মাস বয়সেই দক্ষিণ আফ্যিকার সোয়াজিল্যান্ডের রাজা হয়েছিলেন তিনি। অবশ্য, চীনের শিশুরাজা পুয়ির মতো তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়নি। বরং পরবর্তী ৮২ বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে নিজের উপর শৈশবে অর্পিত এ দায়িত্বটি পালন করে গেছেন তিনি। দ্বিতীয় সভুজার শাসনামলেই ১৯৬৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে সোয়াজিল্যান্ড। ঐ একই বছর তার তত্ত্বাবধানেই সোয়াজিল্যান্ডের জন্য একটি সংবিধান রচনা করা হয়। দ্য গ্রেট মাউন্টেন, দ্য বুল, দ্য সান অফ দ্য শি-এলিফ্যান্ট, দ্য ইনএক্সপ্লিকেবল এবং দ্য লায়নের মতো নানাবিধ উপাধিতে ভূষিত এ মানুষটির মৃত্যুর সময় কতজন স্ত্রী ছিল অনুমান করতে পারবেন? প্রায় ১০০ জন!

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics