103678 পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়সী হ্যাকাররা (শেষ পর্ব)
Best Electronics

পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়সী হ্যাকাররা (শেষ পর্ব)

সৌমিক অনয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪০ ১০ মে ২০১৯  

হ্যাকিং বলতে আমরা সকলে ইন্টারনেট এ স্পর্শকাতর তথ্য বা কোনো ক্ষতিসাধন বুঝলেও আসলে হ্যাকিং এর থেকে কিছুটা ভিন্ন। হ্যাঁ, হ্যাকিং অপরাধ। কিন্তু সকল হ্যাকিং অপরাধ নয়। তিন প্রকারের হ্যাকিং হয়ে থাকে। হোয়াইট হ্যাট হ্যাকিং যেখানে হ্যাকাররা কোনো ওয়েবসাইট বা দেশের সাইবার সিকিউরিটি দেখাশোনা করে এবং কোনো সাইবার দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা করে। এই হ্যাকিংকে এথিক্যাল হ্যাকিংও বলে। গ্রে হ্যাট হ্যাকিং যেখানে হ্যাকাররা সাইবার ল’ ভঙ্গ করে কিন্তু তা ইন্টারনেট বা কোনো দেশের সাইবার সিস্টেম রক্ষার জন্য করে থাকে। 

গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা পর্দার আড়ালেই থাকে এবং সর্বশেষ হল ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার। কোনো ওয়েবসাইট বা দেশ তথা, কম্পানির সাইবার সিকিউরিটি ব্রিচ করে চুরি করে নেয় টাকা থেকে শুরু করে স্পর্শকাতর তথ্য। এই হ্যাকাদেরকেই সাইবার ক্রিমিনাল হিসেবে গণ্য করা হয় এবং বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মেয়াদি শাস্তি দেয়া হয়। এই সিরিজের প্রথম পর্বে আমরা পৃথিবীর কনিষ্ঠ হোয়াইট এবং গ্রে হ্যাট হ্যাকারদের সম্পর্কে জেনেছি। এই পর্বে জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট কিছু ব্লাক হ্যাট হ্যাকারদের সম্পর্কে-

রায়ান ক্লেয়ারি
১৭ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক রায়ান ক্লেয়ারিকে পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়সী ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার হিসেবে গন্য করা হয়। রায়ান এবং তার বন্ধু জেক ডেভিস দু’জন মিলে হ্যাকিং গ্রুপ  লুজসেক তৈরি করে। লুজসেক খুব অল্প সময়েই ব্লাক হ্যাট হ্যাকিং এর জগৎ এ তোলপাড় সৃষ্টি করে। রায়ান এবং ডেভিস মিলে একে একে হ্যাক করে ইংলিশ ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস এবং বড় কিছু কোম্পানির ওয়েব সাইট ও ফাঁস করে গোপন সব তথ্য। তারা শুধু এগুলো করেই শান্ত হয়নি বরং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এ ও ডিফেন্স মিনিস্ট্রি পেন্টাগনের সিস্টেমও হ্যাক করে। তবে তাদের কর্মকান্ডের মধ্যে সবচেথেকে জনপ্রিয় হল ইংলিশ নিউজপেপার দ্য সান এর ওয়েবসাইট হ্যাক করে এবং দ্য সান এর মালিকের মৃত্যুর নকল খবর ছাপে। কিন্তু এত বড় সব সাইবার ক্রাইম করলেও ডেভিস এবং রায়ান বয়সের কারণে মাত্র দুই বছরের কারাদন্ডের শাস্তি লাভ করে।

অজ্ঞাতনামা ছাত্র 
আমরা সকলেই কল্পনায় কলেজ বা ভার্সিটির ওয়েবসাইট হ্যাক করে আমাদের গ্রেড চেঞ্জ করার কথা চিন্তা করেছি। কিন্তু এই কল্পনাকেই সত্য করে দেখিয়েছে নিউ হ্যাম্পশায়ার হাই স্কুলের ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্র। সিকিউরিটির কারণে এই ছাত্রের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে ১৪ বছর বয়সী এই ছাত্র শুধু নিজের গ্রেডই বাড়ায়নি বরং যারা তাকে বুলি করত তাদের গ্রেড কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই ছাত্র তার শিক্ষকদের কাছে ধরা খেয়ে যায়। তবে শাস্তির বদলে এই ১৪ বছর বয়সী ছাত্র পুরুষ্কারই পায়। স্কুল নিজেদের ওয়েবসাইট ও সার্ভারের সিকিউরিটি বাড়ানো হয় এবং এই ছাত্র তার নিজ স্কুলেই সাইবার সিকিউরিটি কনসালটেন্ট হিসেবে চাকরি লাভ করে।

ডিজে হেলেন 
আমরা প্রায়শই সংবাদপত্রে সেলিব্রিটিদের প্রোফাইল হ্যাক হওয়ার এবং পার্সোনাল লাইফের তথ্য ফাঁসের কথা পড়ে থাকি। আর এসকল তথ্য ফাঁস করা হ্যাকারদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল ১৮ বছর বয়সী ডিজে স্টোলেন। নাম শুনে ডিজে মনে হলেও ডিজে স্টোলেন হলিউড সেলিব্রিটিদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। অবশ্য ডিজে স্টোলেন একটি ছদ্দনাম। আসল নাম না পরিচয় জানা যায়নি। এই হ্যাকার শুধুমাত্র সেলিব্রিটিদের স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করেই শান্ত হয়নি বরং হ্যাক করে রিলিজ করেছে অনেক আন-রিলিজড গান ও মিউজিয়াম ভিডিও। লেডি গাগা, শাকিরা, লিওনা লুইস এবং জাস্টিন টিম্বালেক কেউই রক্ষা পায়নি ডিজে হেলেনের হাত থেকে। এই হ্যাকার শুধুমাত্র মারিহা ক্যারের আন-রিলিজড গানই রিলিজ করেনি বরং তার নগ্ন ছবিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে। যে কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত ডিজে হেলেনকে দেড় বছরের কারাদণ্ড এবং ইন্টারনেট এডিকশন থেকে মুক্তির জন্য থেরপি নেয়ার শাস্তি দেয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics