Alexa পৃথিবীর ফুসফুস নষ্ট হলে কার্বন ডাই অক্সাইডে কালো হবে আকাশ!

পৃথিবীর ফুসফুস নষ্ট হলে কার্বন ডাই অক্সাইডে কালো হবে আকাশ!

মেহেদী হাসান শান্ত ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:১৮ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর মোট প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের ২০ শতাংশই সরবরাহ করে আমাজন রেইনফরেস্ট। এজন্যই দক্ষিণ আমেরিকার এই বনাঞ্চলকে পৃথিবীর ফুসফুস বলে আখ্যায়িত করা হয়। পৃথিবীর প্রায় ৩০ শতাংশ জীব প্রজাতি বসবাস করে এই জঙ্গলে। মানুষের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক কিছু রোগ-ব্যধির ওষুধ আসে আমাজন থেকে। 

বলার অপেক্ষা রাখে না, আমরা যদি আমাজন রেইনফরেস্টকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেই, তবে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। এর প্রতিক্রিয়া এসে পড়বে পুরো বিশ্বের ওপর। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি আমাজন ছাড়া পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারবো? আমাদের চিকিৎসাক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হবে? এই বিশাল বনভূমি কি কখনো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব? 

সাম্প্রতিক সময়ে আমাজনের জন্য প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় মাত্রার দাবানল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রাকৃতিক দাবানল হলো আমাজন ধ্বংসের বহু কারণের মধ্যে একটি মাত্র কারণ। চাষাবাদ, খনিজ সম্পদ আহরণ ও কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রতি মিনিটে তিন-তিনটি ফুটবল মাঠের সমতুল্য আয়তনের আমাজন বনভূমি ধ্বংস করছে মানুষ। আমরা যদি এই বনভূমি ধ্বংস প্রক্রিয়া ঠেকাতে ব্যর্থ হই, আগামী ১০০ বছরের মধ্যে এই বন পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। 

আমাজনে দাবানলপুরো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মোট আয়তনের প্রায় ৪০ শতাংশ জুড়ে আমাজন জঙ্গলের অবস্থান। এই মহাদেশের অর্থনীতির সিংহভাগের যোগান আসে এই বনাঞ্চল থেকে। আমাজন বনাঞ্চল একাই প্রতি বছর ৮৬ বিলিয়ন কার্বন শোষণ করে থাকে। আমাজন না থাকলে এই বিপুল পরিমাণ কার্বন পৃথিবীর পরিবেশকে দূষিত করত। 

এই পরিসংখ্যান শুনে অনেকেই মনে করবেন, আমাজন রক্ষার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা উচিত। তবে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। ১৯৭৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রেইনফরেস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। আর এই ধ্বংসলীলার পুরোটাই মানুষের অবদান। 

আমাজন জঙ্গল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলে পৃথিবীর বিপুল পরিমাণ জীববৈচিত্র্য একেবারেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো বাস্তুসংস্থানের চেয়ে আমাজনের জীববৈচিত্র্য অনেক বেশি। এই অপরিসীম জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে গেলে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে গোটা পৃথিবীর উপর। 

পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন জঙ্গলএতো গেলো শুধুমাত্র বাস্তুসংস্থানের মতো কাঠখোট্টা বিষয়। এবার আসি খাবার ও ওষুধের কথায়। অনেকেই অবাক হবেন এটা জেনে যে, জীবনরক্ষাকারী শতশত প্রেসক্রাইবড ওষুধের কাঁচামাল আসে আমাজন থেকে। না, শুধুমাত্র ভেষজ বা হার্বাল ওষুধ নয়। ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের ওষুধের যোগান দেয় আমাজন। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, আমাজনের বুকে যত রোগের মহৌষধ লুকিয়ে আছে, আমরা তার মাত্র ৫ শতাংশ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পেরেছি! 

তাই এ বনভূমি পুরোপুরি ধ্বংস হলে ওষুধের বিশাল একটি উৎস পড়ে যাবে হুমকির মুখে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি শুধু থেমেই যাবে না, পিছিয়ে পড়বে অনেকাংশে। আমাজন ধ্বংস হয়ে গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি অভাবনীয় পরিমাণে বেড়ে যাবে। অক্সিজেনের উৎস হওয়া তো দূরের কথা!

এই বন ধ্বংস করে গড়ে ওঠা কারখানা থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডে কালো হবে পৃথিবীর আকাশ। এখন পর্যন্ত আমাজন প্রতি বছর ৯০ থেকে ১৫০ বিলিয়ন টন কার্বন শোষণ করে। আমাজন না থাকলে অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কার্বন ধারণের একটি বড় শোষণাগারেরও মৃত্যু হবে। অধিকাংশ গবেষকই মনে করেন, এমনটি হলে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের যুদ্ধে হেরে যেতে হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস