Alexa পৃথিবীর কয়েকটি রহস্য ঘেরা স্থান

পৃথিবীর কয়েকটি রহস্য ঘেরা স্থান

সাদিকা আক্তার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১২ ১৯ অক্টোবর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পৃথিবীতে এখনো অনেক স্থান রয়েছে যেখানে আজও বিজ্ঞান রহস্যভেদ করতে পারেনি সফলভাবে।এ সকল স্থান একদিকে মানুষের মনে কৌতূহল সৃষ্টি করে এবং অপরদিকে রহস্যভেদ করা বিজ্ঞানের কাছে চ্যালেঞ্জিং বিষয় বলে মনে হয়।

এ সকল জায়গা যেমন ভয়ঙ্কর, তেমনই বিপজ্জনক। এমনই কিছু স্থানের বর্ণনা নিচে দেয়া হলো-

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল (Barmuda Triangle)

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলপ্রশান্ত মহাসাগরে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নামক একটি স্থান রয়েছে। এটি জাপান ও কুনিন দ্বীপ এর মাঝখানে অবস্থিত। এটি জাপান, তাইওয়ান ও ইয়াপ দ্বীপপুঞ্জকে সংযুক্ত করেছে। অনেকে ধারণা করেন যে, ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল এবং বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল একই। এখানে যদি কোনো জাহাজ, উড়ােজাহাজ প্রবেশ করে, তবে তা নিমিষেই উধাও হয়ে যায়। চীনা পৌরাণিকবিদরা ধারণা করেন যে, এখানে ড্রাগন তার ক্ষুধা নিবারণের জন্য ঘন কুয়াশা ও ভুমিকম্প সৃষ্টি করে, যার কারণে জাহাজ, উড়োজাহাজ উধাও হয়ে যায় এবং তার কোনাে হদিস মেলে না। ১৯৬০ সালে জাপান সরকার এখানে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান ক্রু পাঠায়, কিন্তু তা নিখোঁজ হয়। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, পৃথিবীর মানচিত্রে এর কোনাে আয়তন দেখা যায় না। ধারণা করা হয় এর আয়তন ৩৭ হাজার বর্গমাইল। প্রকৃতিবিদরা ধারণা করেন এখানে আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প হয় এবং এ স্থানে প্রচুর মাধ্যাকর্ষণ বল রয়েছে , যার কারণে সবকিছু উধাও হয়। কিন্তু এর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায় নি।

মুভিং মাউন্টেইন ( Moving Mountain )

মুভিং মাউন্টেইনমুভিং মাউন্টেইন নামক পাহাড় নড়াচড়া করতে পারে। এটি প্রতিবছর ২০-৬০ মিটার নিজের জায়গা থেকে সরতে থাকে। এটি ডানদিকে ৭০-৭৫ ফুট করে সরছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন মাটির নিচে আগ্নেয়গিরির কারণে এমন হচ্ছে কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনাে সুষ্ঠু প্রমাণ দিতে পারেনি।

ব্লাড ফল্স ( Blood Falls )

ব্লাড ফলসএন্টার্কটিকায় সাদা বরফের পাহাড়ের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর লাল রঙের একটি ঝর্ণা প্রবাহিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন এ পানির মধ্যে Feo নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকার কারণে Chemial Reaction হয়। কিন্তু এ বিষয়ে সুষ্ঠু প্রমাণ এখনাে পাওয়া যায়নি।

কেলিমুটু ( Kelimutu )

কেলিমুটুইন্দোনেশিয়ায় কেলিমুটু একটি দ্বীপে পাশাপাশি তিনটি পুকুর রয়েছে। এ পুকুর তিনটি পাশাপাশি হওয়ার পরও তিনটি পুকুরের রং হচ্ছে নীল, সবুজ ও কালাে। ধারণা করা হয় ঋতু পরিবর্তন ও আগ্নেয়গিরি এর কারণ। কিন্তু ঋতু পরিবর্তন ও আগ্নেয়গিরি যে এর কারণ তার কোনাে সুষ্ঠু প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গেটস অফ হেল ( Gates of Hell )

গেটস অব হেলএকে নরকের দরজা বলা হয়। কারণ এখানে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত আছে। ১৯৫০ সালে তুর্কমেনিস্তান সরকার ৬০ মিটার বিশিষ্ট একটি গর্ত খনন করে। কিন্তু ১৯৭১ সালে সেখানে আগুন জ্বলে যায় এবং এখনো জ্বলছে। এর কারণ যে শুধু অগ্নুৎপাত নয়, তার প্রমাণ মিলেছে কিন্তু এর সুষ্ঠু প্রমাণ আজ মেলেনি।

নাগা ফায়ারবলস ( Nagga Fireballs )

নাগা ফায়ারবলসথাইল্যান্ডের খং নদীতে নাগা ফায়ারবলস হয়। প্রতিবছর মে ও অক্টোবর মাসে নদী থেকে বাস্কেটবলের ওজনের সমান আগুনের গােলা বের হয়। যা ১৫০-২০০ মিটার পর আকাশে ফেটে যায়। প্রতি রাতে এর সংখ্যা ৩-১৫০০ পর্যন্ত। ধারণা করা হয় ড্রাগন আগুন ছুঁড়ছে কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেন মিথেল গ্যাসের কারণে এটি হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এর সুষ্ঠু প্রমাণ দিতে পারেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ