Alexa পুরোদমে চলছে বইমেলার প্রস্তুতি

পুরোদমে চলছে বইমেলার প্রস্তুতি

সাইফুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪২ ২৩ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:১৭ ২৩ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আর মাত্র দশদিন। এরপরই শুরু হবে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এক মাসের এ আয়োজন সফল করতে এরইমধ্যে তুমুল প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলা একাডেমি। গেল বছরের তুলনায় এবার বাড়ানো হয়েছে মেলার পরিসরও। বাড়ছে স্টল ও প্রকাশনীর সংখ্যাও।

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, এবার বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশ বাড়ানো হয়েছে। লেকের পশ্চিম পাশের পুরো অংশে এবার স্টল বসানো হচ্ছে। অন্যান্য বছরগুলোতে এই অংশটি মেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এ বছর মেলায় সব মিলিয়ে ৮৫০টি স্টল বসানো হয়েছে। এরমধ্যে বাংলা একাডেমির ভেতরে ১৫০টি স্টল বসেছে।

একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গতবারই বলা হয়েছিল ২০২০ সালের বইমেলার পরিসর বাড়ছে। মেলার জায়গা বাড়ায় এ বছর স্টলও বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী হওয়ায় এবারের মেলার পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি আয়োজনেও অনেক বৈচিত্র্য আনা হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে থাকবে বিভিন্ন সাহিত্য আলোচনা ও আসর।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী হওয়ায় এবার অনুষ্ঠান সূচিতে মহান এই নেতার জীবন ও কর্ম নিয়ে বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছে। এসব আয়োজনে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ও বাংলা সাহিত্যে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন সেটি তুলে ধরা হবে।

বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, মেলা অঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে স্টল বসানোর কাজ। বেশির ভাগ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানই তাদের স্টলের নির্মাণ কাজ শেষ করে ফেলেছে। অনেকে আবার দাঁড় করাচ্ছে স্টলের কাঠামো। সব স্টলের কাঠামো দাঁড়ালেই শুরু হবে সাজসজ্জার আয়োজন। মেলা শুরু হওয়া পর্যন্ত চলবে স্টল রঙ করা, বিজ্ঞাপনী ঝোলানো ও আলোকসজ্জার কাজ।

এবারো লেখক, কবি, সাহিত্যিক, বিভিন্ন অঙ্গনের সিনিয়র ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে একটি গেট বসানো হবে। মেলায় মাসব্যাপী থাকবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে- সেমিনার, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, প্রকাশনা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বইমেলার নিরাপত্তা বিষয়ে জালাল আহমেদ বলেন, এবারের মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হচ্ছে। নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যাও বাড়বে। পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য ফোর্সের সদস্যদের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের কাছে নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা হবে।

এবার অবশ্য বইমেলার অর্ধ-শতাব্দীকাল ধরে চলা ঐতিহ্যে কিছুটা ছেদ পড়েছে। রেওয়াজ ভেঙে বইমেলা এবার ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে শুরু হবে ২ ফেব্রুয়ারি। সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে ১ ফেব্রুয়ারিতে নেওয়ায় বইমেলার উদ্বোধন পেছানো হয়েছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বইমেলার উদ্বোধনের জন্য যে ধরনের আইন-শৃঙ্খলার প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, সেটি নির্বাচনের দিন সম্ভব নয়। নির্বাচনের দিন সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তাই মেলায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে কম। এসব কারণেই মেলা পেছানো হয়েছে।

বইমেলা পেছানোয় লেখক-পাঠকদের কোন সমস্যা হবে না উল্লেখ করে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, একদিন পেছালেও এবার মেলা চলবে ২৯ তারিখ পর্যন্ত, কারণ এটি লিপইয়ার। ফলে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মন খারাপ করার কোনো কারণ নেই। এ বছর মেলার পরিসর বাড়ানোতে তাদের অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনুষ্ঠান ও আয়োজনও বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া বইমেলার পাশাপাশি জাতীয় কবিতা উৎসব আয়োজনও একদিন পেছানো হয়েছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেয়া জাতীয় কবিতা উৎসবও একদিন পিছিয়ে ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ