Alexa পুরুষের পেটে ‘সন্তান’!

পুরুষের পেটে ‘সন্তান’!

আয়েশা পারভীন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৮:৪৪ ১৮ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একজন নারী গর্ভবতী হওয়ার ব্যাপারটা খুব স্বাভাবিক। প্রকৃতিই করে দিয়েছে এই নিয়ম। একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের ফলে গর্ভবতী হয়। তবে কখনো কী শুনেছেন পুরুষকে গর্ভবতী হতে? হ্যাঁ! এবার তাই ঘটেছে যুক্তরাজ্যের এক এলাকায়।

পাঠক বন্ধুরা ভেবে অবাক হচ্ছেন, এটা কীভাবে সম্ভব?  অবাক হওয়ারই মতো ঘটনা। পরে পুরো বিষয়টি পরে সব বোঝা গেছে। ঘটনা হলো, এবার যুক্তরাজ্যে গর্ভবতী হলেন একজন পুরুষ! তবে ওই লোকটি পুরোপুরি পুরুষ না হলেও তিনি ছিলেন একজন ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামী পুরুষ। 

বাচ্চা পেটে আসার পর তিনি (ওই লোকটি) প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাজির হন হাসপাতালে। তবে নার্স প্রথমে বিষয়টিকে আমলে নেননি। তিনি বিষয়টি খুব সাধারণ মনে করেন। এজন্য তিনি তাকে স্থূলতাজনিত সমস্যা ভেবে উচ্চ রক্তপাতের ওষুধ দিয়ে ব্যথা দমন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এমন ওষুধে কী আর হয়! তার ব্যথা আরো বাড়তে থাকে। পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে নার্সকে জানান, তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার। 

তবে ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ডে তাকে একজন পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ওই নার্স তাকে ব্যথার ওষুধ দিয়েছিলেন। এর আগে, বহু বছর ধরে তার কোনো ‘পিরিয়ড’ ছিল না এবং তিনি টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করেছিলেন। টেস্টোস্টেরন এমন এক ধরনের হরমোন যা ‘মাসকুলাইনিং’ (পুং-লিঙ্গ) প্রভাব ফেলেছে। ওই হরমোনের কারণে ডিম্বাশয় গঠন ও মাসিক (মিনেস্ট্রেশন) কমে যেতে পারে। কিন্তু তিনি এক পর্যায়ে হরমোন ও রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণ করা বন্ধ করে দেন।

এর আগে, ওই লোক বাড়িতে প্রেগনেন্সি টেস্ট (গর্ভাবস্থা পরীক্ষা) করেছিলেন যা ‘পজিটিভ’ ছিল। ওই সময় নাকি তাকে একজন নার্স এই টেস্ট করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এই নার্স (পরের জন) কিন্তু তাকে নিয়ে এমন ভাবতেই পারেননি। তিনি তার অবস্থাকে স্থিতিশীল এবং এ সমস্যাকে জরুরি নয় বলে বিবেচনা করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরে একজন ডাক্তার বিষয়টি আমলে নিয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করেন। এই টেস্টের মাধ্যমে তার প্রেগনেন্সি (গর্ভাবস্থা) নিশ্চিত করা হয়।

জানা গেছে, গর্ভবতী ওই পুরুষের বয়স ছিল ৩২ বছর। তার একটি আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা হয়, যেখানে ভ্রূণের হার্টের অস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। এরপর ডাক্তাররা জরুরি সিজারিয়ান ডেলিভারি করতে প্রস্তুতি নিলেন। কিন্তু অপারেশনের রুমে নেয়ার পর ভ্রূণে হার্টবিট শুনা যায়নি। তবে একজন নারীর ক্ষেত্রেও একই রকম উপসর্গ দেখা যায়। তাই কয়েকদিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

এদিকে, এরই মধ্যে এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছে ওই নার্স। এরপর পুরো ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। তবে ওই পুরুষের সর্বশেষ কী হয়েছে, তা এখনো জানাতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে ডাক্তাররাও বেশ চিন্তিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ জানা গেছে, তিনি এখনো যুক্তরাজ্যের ওই হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

সূত্র: দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই