পুননির্বাচিত হলে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে চোখ শেখ হাসিনার
Best Electronics

পুননির্বাচিত হলে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে চোখ শেখ হাসিনার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৯ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:৩৪ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

জাপানের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদপত্র নিকি এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাপানের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদপত্র নিকি এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আরেকবার নির্বাচিত হলে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাপানের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদপত্র নিকি এশিয়ান রিভিউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই লক্ষ্যের কথা জানান তিনি। বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ অর্জন হবে। যদি পুনর্নির্বাচিত হই, আমি আপনাদের বলতে চাই যে আমরা যে সব কর্মসূচি নেব, তাতে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ; তা এখন বেড়ে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার আমলেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় এক হাজার ডলার। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ।

এই ১০ বছরে বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের মহাসড়কে’ তোলার দাবি করে আসা শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে নেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, ভোটে জনগণ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবে।

অর্থনীতির গতি বাড়ানোর চেষ্টার উদাহরণ হিসেবে সারা দেশজুড়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে জাপানি সংবাদপত্রটিকে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে পারবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে আগামী বছর দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। এ পরিকল্পনা আমাদের আছে।

পাবনার রূপপুরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ ইতমধ্যে শুরু হয়েছে, সেখানে দুটি ইউনিটে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১৭ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট, যার অর্ধেকের বেশি আসে তেল ও গ্যাস থেকে। গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে অন্য উৎসের দিকে নজর এখন বাংলাদেশের।

দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জমি খোঁজার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে যাদের প্রস্তাব দেশের জন্য ভালো হবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে।

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি খুব ভাগ্যবান যে আমার দেশের মানুষ আমার উপর ভরসা রেখেছে। যখন আমি তাদের (রোহিঙ্গা) দুর্দশার কথা তুলে ধরে আমার দেশের মানুষকে বলেছি যে প্রয়োজন হলে আমরা খাবার ভাগাভাগি করে খাব, দেশবাসী তা মেনে নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এটা খুব সুন্দর একটার দ্বীপ। সেখানে তারা সুন্দর জীবন পাবে, শিশুগুলো পাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা।

ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে ১০ লাখ মানুষ এঁটে যাবে বলে জানান তিনি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাউকে জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে এই সঙ্কটের স্থায়ী অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়য়ের মনোযোগও আকর্ষণ করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস

Best Electronics