Alexa পুকুর গিলে খাচ্ছে নদী!

পুকুর গিলে খাচ্ছে নদী!

সাবজাল হোসেন, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪০ ৯ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:২০ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা খননকৃত নদীর স্থান ম্যাপ অনুযায়ী মেপে দেখলেন পুকুরের মধ্যে রয়েছে নদীর জায়গা। কর্তৃপক্ষ স্থানটি মেপে লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছেন। ফলে গ্রামবাসীর অভিযোগই সঠিক হলো।

সোমবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বুড়ি ভৈরব নদীর খনন কাজের সময় নদী খেকো সিদ্দিকুরের পুকুরের মধ্যে নদীর জায়গার অবস্থান খোঁজে পাওয়া যায়। পরে কর্তৃপক্ষ স্থানটি মেপে লাল নিশান টানিয়ে দেয়।

নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে বুড়ি ভৈরব নদীর খনন কাজ শুরু হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে দখলদাররা। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী চলছে খনন কাজ। কিন্তু নদীটির গা-ঘেঁষা হাসিলবাগ ও মাশলিয়া এলাকার সাদিকপুর গ্রামের প্রভাবশালী সিদ্দিকুর রহমান নামে এক দখলদার নদীর জায়গা দখল করে পুকুর কাটলেও অদৃশ্য কারণে এড়িয়ে গেছেন খনন কাজে দায়িত্ব পালনকারীরা। নদী খননের সময় দখল করা নদীর জায়গা দখলমুক্ত করা তো দূরের কথা উল্টো নদীর জায়গার বাইরের বেশ কিছু কৃষকের জায়গা কৌশলে নদী দেখিয়ে মাটি ফেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডে অভিযোগ দেয়া হয়। 

গ্রামবাসীর অভিযোগ, নদী খননের কাজ হচ্ছে এটা বেশ ভালো উদ্যোগ। কিন্তু দখলবাজ সিদ্দিকুর নদী খননের সময় নদী মাপার সঙ্গে জড়িতদের বিশেষভাবে ম্যানেজ করে পাল্টে ফেলে নদী খননের ম্যাপ। গ্রামবাসী সে সময়ে সিদ্দিকুর রহমানের খননকৃত পুকুরের মধ্যে নদীর জায়গা আছে এমন অভিযোগ দিলেও সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করেনি। 

এ ঘটনায় মাশলিয়া গ্রামবাসীর পক্ষে আব্দুল জান্নান নামে এক ব্যক্তি পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা ভূমি অফিসসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন।

সে সময়ে নদী দখলবাজদের উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন হয়। 

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ও বারবাজার ইউপির মাঝ দিয়ে বুড়ি ভৈরব নদী প্রবাহিত। এই নদীটির নাব্য ফিরিয়ে আনতে খনন কাজে সরকারের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু নদীর মাঝে মাশলিয়া এলাকায় নদীর জমিতে প্রায় ২ দশমিক ৩৫ শতক জমি দখল করে পুকুর করা হয়েছে। বর্তমানে ওই নদীতে খনন কার্যক্রম চলছে। দখলবাজ সিদ্দিকুর নদী মাপের সঙ্গে জড়িতদের ঘুষ দিয়ে নদীর গতিপথ খানিকটা ঘুরিয়ে দিয়ে সিদ্দিকুরের পুকুর রক্ষা করেছেন। এভাবেই ওই স্থানের খনন কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে সঙ্গে ওই জমির পাড়েই পানি উন্নয়ন বোর্ড গাছ লাগিয়ে দিয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, পুকুরটির কারণে নদীর অপর পাশের ১০ কৃষকের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

মাশলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নদীর জায়গা দখল করে সিদ্দিকুর রহমান পুকুর তৈরি করেছেন। বিষয়টি অভিযোগ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডে ও ঠিকাদারকে খননের সময়ে জানানো হলেও অদৃশ্য কারণে সে সময়ে তারা কর্ণপাত করেনি।

হাসিলবাগ গ্রামের আবু বক্কার জানান, তাদের প্রায় ৩৫ শতক ফসলি জমি নদীর মধ্যে খনন করে নিয়েছে। কিন্তু পাশের সিদ্দিকুর রহমান নদীর জায়গা দখল করেও সে সময়ে রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাপার পর প্রমাণিত হয়েছে এলাকাবাসীর অভিযোগই সঠিক।

সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন পুকুর তার নিজের জমিতেই খনন করেছেন। এলাকার কিছু মানুষ তার বিরোধিতা করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমার জমির পাশ দিয়ে নদীর ম্যাপে বাঁক আছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে আমি জানিয়েছি। এরই প্রেক্ষিতে তারা আমার পুকুরের পাশ থেকে কিছু অংশ খনন করে মাটি তার পুকুর পাড়ে দিয়েছে। আমি পরে শ্রমিক নিয়ে এই পুকুরের পাড় বেঁধে নিয়েছিলাম। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী ইনজামামুল হক রোহান জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে খননকৃত স্থানটি সোমবার মাপা হয়েছে। সিদ্দিুকুর নামে এক পুকুর খননকারীর খননকৃত পুকুরের প্রায় অর্ধেকটা নদীর জায়গা পাওয়া গেছে। যেখানে লাল নিশান দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, বুড়ি ভৈরব নদীটি ২২০ ফুটের মতো প্রশস্ত। কিন্তু খনন করা হচ্ছে মাত্র ১৪০ ফুটের মতো। কাজেই দুই ধারে আরো জমি থাকছে। নদী খননের পরে কাউকে না জানিয়ে পাড়ের মাটি সরিয়ে সিদ্দিকুর তার পুকুরের পাড় বেঁধেছেন। সিদ্দিকুর রহমান অপরাধ করেছেন। 

কালীগঞ্জের ইউএনও সুবর্ণা রানী সাহা বলেন, বুড়ি ভৈরব দখল করে একজন পুকুর কেটেছেন যা মেপে পাওয়া গেছে এমন কথা শুনেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে দখলমুক্ত করা হবে। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/জেএস