Alexa পীরের আস্তানায় দিনের পর দিন ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা

পীরের আস্তানায় দিনের পর দিন ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:১৫ ১৭ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ০৯:৩২ ১৭ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম স্ত্রী আয়েশা আক্তারের অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন ট্রাকচালক মো. জসীম। আয়েশা তার দুই সন্তান জয় ও ঐশী নিয়ে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ভাড়া বাসায় অন্যরকম জীবনযুদ্ধের সম্মুখীন হন। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন একটি বাসায়। আর স্বামীকে ফিরে পেতে চেষ্টা করতে গিয়ে এক কথিত পীরের খপ্পরে পড়েন আয়েশা। 

স্বামীকে ফেরত পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে ফাঁদে ফেলেন ওই পীর। দিনের পর দিন আয়েশার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেন ওই পীর। এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে আয়েশা তার অর্থ ফেরত চাইলে নতুন ফাঁদে ফেলে অচেতন করে আয়েশাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেন তিনি। 

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় এমন পৈশাচিক ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আয়েশার হত্যার ঘটনাস্থলের কিছু আলামত ও তার এক স্বজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার জন্য দায়ী কথিত ওই পীর।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৫ জুলাই সকালে রাজধানীর ভাটারার টিনশেড কলোনির ৬ নম্বর বাসায় গিয়ে স্বজনরা দেখেন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আয়েশার নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। তার হাত চৌকির এক পাশে ও পা চৌকির অপর পাশে বাঁধা। তার গলা একটি জিআই তার দিয়ে প্যাঁচানো। পরে খবর পেয়ে পুলিশ আয়েশার লাশ উদ্ধার করে।  

এ ঘটনায় ভাটারা থানায় করা মামলায় আয়েশার স্বামী জসীম, তার দ্বিতীয় স্ত্রী হামিদা (৪০) ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।  

কথিত পীর আয়েশাকে জানান, তার ওপর থেকে 'বদ নজর' দূর করতে হলে অন্য যে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। এটা করার পর সতিনের 'বাধা' তার ওপর থেকে সরে যাবে। এরপর ধীরে ধীরে তার স্বামী আবার তাকে ভালোবাসবেন। স্বামীর ভালোবাসা ফেরত পাওয়া ও দুই সন্তান নিয়ে সংসারে কোনোভাবে বেঁচে থাকার আশায় শেষ পর্যন্ত ওই পীরের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতে রাজি হন আয়েশা।  

স্বামীকে ফেরত পাওয়ার অগ্রগতি জানতে চাইলে কথিত পীর জানান, তার স্বামী টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা পর্যন্ত এসেছে। তবে ভাটারার বাসা পর্যন্ত আনতে গেলে আরেক পরীক্ষা দিতে হবে তাকে। ভণ্ড পীর আশেয়াকে জানান, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাসায় ধ্যানমগ্ন থাকতে হবে। ওই সময় ওই অবস্থায় তাকে 'পানি পড়া' খেতে হবে। এই কথা জানিয়ে ৪ জুলাই আয়েশার বাসায় যান ওই পীর। এরপর বাসার মেঝেতে আয়েশাকে হাত-পা বেঁধে ফেলেন। 'পানি পড়া' খাওয়ানোর কথা বলে একটি স্পিরিটের বোতলের ভেতরে দুটি উচ্চমাত্রার ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। এরপর আয়েশা অচেতন হয়ে পড়লে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেন ওই পীর। পরে গলায় জিআই তার পেঁচিয়ে নৃশংসভাবে খুন করেন। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিবির উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান বলেন, আয়েশাকে যে কায়দায় হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস। এ ঘটনার জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

Best Electronics
Best Electronics