পায়ে হেঁটে তুরাগের পথে হাজারো মুসল্লি

পায়ে হেঁটে তুরাগের পথে হাজারো মুসল্লি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৮:৫৩ ১২ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৯:১৩ ১২ জানুয়ারি ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে শীতের ঘন কুয়াশা ঠেলে তুরাগমুখী হয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। 

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে ভোর থেকে রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত এবং মীরের বাজার থেকে টঙ্গী ও আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাস পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ আছে। এদিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ইজতেমার ময়দান পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সঙ্গে যে সব লিংক রোড খোলা রয়েছে এর থেকে যাতে কোনো ধরনের যানবাহন মহাসড়কে উঠতে না পারে তার জন্য নেয়া হয়েছে পুলিশি ব্যবস্থা। তাই ফজরের নামাজ পড়েই রাজধানী থেকে মুসল্লিরা হেঁটেই ছুটতে শুরু করেন তুরাগ অভিমুখে।
 
এছাড়াও তীব্র শীত উপেক্ষা করে বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে মুসল্লিরা আসছেন তুরাগ তীরে। রাতে অনেককে রিকশা ও ভ্যানযোগেও যেতে দেখা যায়।

রোববার বাদ ফজর ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে হেদায়েতি বয়ান পেশ করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক। আখেরি মোনাজাতের আগে বিশেষ বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা ইবরাহিম দেওলা। বেলা সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার দিকে আখেরি মোনাজাত হওয়ার কথা রয়েছে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বাংলাদেশের তাবলিগের প্রধান মারকাজ কাকরাইলের মুরব্বি হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদ।

এ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৭ জানুয়ারি শেষ হবে ১৯ জানুয়ারি। আখেরি মোনাজাতের আগে মুসল্লিদের বিশেষ করে যারা বিভিন্ন মেয়াদে জামায়াতে যাচ্ছেন হেদায়েতি বয়ান অনেকটা তাদের জন্য।

এর আগে, শুক্রবার ইমান, আমল ও আখলাক, দাওয়াত ও তাবলীগ সম্পর্কে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের বৃহত্তম জুমার জামাত। ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী লাখ লাখ মুসল্লিরা শরিক হন এই বৃহত্তম জুমার নামাজে। 

জুমার নামাজে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ইজতেমার প্রথম পর্বে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চাঁদ, ইথিওপিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নেপাল, কেনিয়া, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন ভাষা-ভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ইজতেমা ময়দানে বিদেশি মেহমানদের ভিন্ন ভিন্ন তাঁবু নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ