পাহাড়ে সাংগ্রাই জলোৎসবে বৈসাবি উৎসবের সমাপ্তি

পাহাড়ে সাংগ্রাই জলোৎসবে বৈসাবি উৎসবের সমাপ্তি

রাঙামাটি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৫০ ১৫ এপ্রিল ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাঙামাটির কাপ্তাই রাইখালী নারানগিরি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে স্বর্গীয় অনন্ত চৌধুরী মাঠে সাংগ্রাই জলোৎসবের মধ্যদিয়ে বৈসাবি উৎসবের সমাপ্তি হয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত সাংগ্রাইয়ের ঘণ্টা বাঁজিয়ে উৎসবে পানি খেলার উদ্বোধন করেন রাঙামাটির এমপি দীপংকর তালুকদার। পবিত্র পানির ধারা ধুয়ে মুছে দিবে পুরনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি। পাড়ায় পাড়ায় চলে মৈত্রী পানি বর্ষণের আয়োজন।

পাহাড়ি-বাঙালি হাজারো মানুষের মিলন মেলায় মারমা সম্প্রদায়ের সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই পানি খেলাকে মারমা পাড়াতে বইছে জল উৎসবের জোয়ার। তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে বরণ করে নেন নতুন বছরকে।

পরে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুরু হয় পানি খেলা। মারমা তরুণ-তরুণীরা কয়েকটি দলে অংশ নেয় পানি খেলায়। জল উৎসবের পাশাপাশি চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মারমা নারী-পুরুষ এ উৎসবে যোগ দেন। তারা নেচে গেয়ে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। পাহাড়ে  সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে বৈসাবির জল উৎসবকে একটি শ্বাশত রূপ মনে করা হয়।

এর আগে রাঙামাটি মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা সভাপতি অংসুই প্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি দীপংকর তালুকদার, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ, রাঙামাটি ডিজিএফআই কমান্ডার কর্নেল মো. শামসুল আলম, অ্যাডিশনাল ডিসি এস এম শফি কামাল, অ্যাডিশনাল এসপি শফিউল্লাহসহ স্থানীয় নেতারা।

সভায় দীপংকর তালুকদার বলেন,  ১৭ মার্চের ন্যাক্কাজনক সন্ত্রাসী হামলার পর উৎসব নিয়ে দুচিন্তা ছিল। তবে আমরা সফল হয়েছি। প্রশাসন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাই স্বার্থান্বেষী মহল নতুন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মতো ইস্যু পায়নি। তারা ইস্যু না পেলেও পাহাড়ের সাধারণ মানুষদেকে বৈসাবি উৎসব পালন না করতে আওয়াজ তুলেছে। কিন্তু পাহাড়ে সামাজিক উৎসবে মাতায়ারা মানুষ তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে আনন্দঘন পরিবেশে বৈসাবি উৎসব পালন করেছে।

তিনি বলেন, ১২ তারিখ ফুল বিজু, সুন্দর অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে, ১৩ মুল বিজু আনন্দঘন পরিবেশে পাহাড়ের মানুষ ঘুরে বেরিয়েছে। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালন করেছে। আজ সাংগ্রাই জলোৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। এখানে পাহাড়ী,বাঙালি সব সম্প্রদায় আনন্দঘন পরিবেশে উৎসবে মেতে উঠেছে। এটাকেই বলে উৎসবের শ্বাশত রূপ। এই শ্বাশত রূপটাকেই আমরা ধরে রাখতে চাই।

মারমা সম্প্রদায় পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এই জল উৎসব করে থাকে। দিন ব্যাপী চলে ই আয়োজন। তবে মারমাদের পানি খেলা মধ্যে দিয়ে বৈসাবী উৎসব শেষ হয়। তবে এর রেষ থাকে এপ্রিল জুড়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ