পাহাড়ে সবজি চাষে ঢাবি শিক্ষার্থীর অভূতপূর্ব সাফল্য

পাহাড়ে সবজি চাষে ঢাবি শিক্ষার্থীর অভূতপূর্ব সাফল্য

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৩ ৭ জুলাই ২০২০  

নিজের বাগানে সবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত ঢাবি শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া

নিজের বাগানে সবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত ঢাবি শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী মো. রাসেল মিয়া। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় গ্রামের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার শমেশ্চুরাতে চলে যান। সীমান্তবর্তী পাহাড়ে সবজি চাষ করে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে কোনোরকমে পড়াশোনার খরচ জোগানোর পাশাপাশি গ্রামে পাঁচ সদস্যের পরিবারকে সহযোগিতা করতেন রাসেল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে পড়ে সেই জীবিকা বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই ঠিক করলেন নতুন কিছু করার।

যেই ভাবা, সেই কাজ- নিজ গ্রাম সংলগ্ন গারো পাহাড়ের পতিত জমিতে নিজেই জমি তৈরি করে শুরু করেন সবজি চাষ। সকাল-সন্ধ্যা কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তোলেন বরবটি, করলা, কাকরোল, কুমড়া আর ঝিঙের বাগান। এরইমধ্যে সেই বাগানের বরবটি, কাকরোল ও করলা বিক্রি করেছেন। কুমড়া ও ঝিঙে ফলবে কয়েকদিনের মধ্যেই।

গারো পাহাড়ের পতিত জমিতে ঢাবি শিক্ষার্থী রাসেল মিয়ার সবজি বাগান

এ বাগান করতে রাসেল মিয়ার খরচ হয়েছে প্রায় সাত হাজার টাকা। প্রতিদিন ভোরে এসে বাগান পরিচর্যার পাশাপাশি সবজি তুলে পার্শ্ববর্তী হলদিগ্রাম চৌরাস্তা পাইকারী বাজারে বিক্রি করেন তিনি। এরইমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে। রাসেলের আশা, আরো প্রায় ৫০-৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হবে।

রাসেল মিয়া বলেন, সবজি বিক্রি করে আপাতত একটা ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য স্থায়ী কিছু একটা খুবই প্রয়োজন। পাহাড়ে অনেক পতিত ও অনাবাদি খাস জমি রয়েছে। প্রশাসন এসব জমি থেকে কিছু বন্দোবস্ত করে দিলে আমার পরিবারের কষ্ট অনেক কমতো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর