পাহাড়ে যোগাযোগের নবদিগন্ত ‘চেঙ্গী সেতু’

পাহাড়ে যোগাযোগের নবদিগন্ত ‘চেঙ্গী সেতু’

এম.নাজিম উদ্দিন, রাঙামাটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৫ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:২৪ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

পাহাড়ে যোগাযোগে নব দিগন্তের উন্মোচন করতে যাচ্ছে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় নির্মিত ‘চেঙ্গী সেতু’। এটি উদ্বোধন হলে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির তিন উপজেলার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। 

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেতুটি উদ্বোধন করা হলে স্থানীয়দের দীর্ঘ বছরের কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। সেতুটি দিয়ে যান চলাচল শুরু হলে নানিয়ারচর, লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। ফলে ওই এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক ভাগ্যের চাকা ঘুরবে বলে স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

গত ২০১৭ সালে নানিয়ারচর উপজেলায় রাজনৈতিক সফরে এসে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চেঙ্গী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। এরই ভিত্তিতে ২০১৮ সালের প্রথম দিকে চেঙ্গী নদীতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে সরকার।

সেতুটি নির্মাণ কাজ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মণিকো এন্ড কোম্পানী লিমিটেড। এতে সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ২৪ (ইসিবি) ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন।

ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ব্রিজটি ৪৮৭ মিটার দীর্ঘ। এতে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা। তবে সেতুটি পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করতে ব্যয় আরো বাড়তে পারে। তবে যান চলাচলের জন্য উপযোগী করে আগামী  মাসের মধ্যে উদ্বোধন হতে পারে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। আর সেতুটি উদ্বোধনের পর কিছু সড়কের উন্নয়ন কাজে হাত দেয়া হবে। তৈরি করা কালভার্ট প্রশস্ত করা হবে, সড়কের পরিধি বাড়ানো হবে বলেও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নানিয়ারচর উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, আমরা অনেক বেশি খুশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের দাবি পূরণ করেছেন।

নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাব বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিলো। সরকার সেই চ্যালেঞ্জ পূরণ করেছে। আর কঠিন কাজটি একমাত্র সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণে।

আওয়ামী লীগের এ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরো বলেন, স্থানীয়রা অনেক খুশি। তাদের দীর্ঘ বছরের দাবি সরকার পূরণ করেছে। সেতুটি নির্মাণের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সবাই লাভবান হবে। এ অঞ্চলটি একটি সমৃদ্ধিশালী অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হবে।

আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াহাব জানান, নানিয়ারচর উপজেলা ছিলো দুর্গম এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বেশ অনুন্নত। এ দুর্গমতাকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা খুন, ঘুম, চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করত। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় অনেকাংশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

নানিয়ারচরের ইউএনও শিউলী রহমান তিন্নী বলেন, নানিয়ারচর দুর্গম উপজেলা। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় এ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার যেমন উন্নতি হবে, তেমনি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। এটি সরকারের আন্তরিকতার ফসল বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহিন রুসানা বলেন, ভালো কাজকে স্বাগত জানাতে হবে। চেঙ্গী সেতু নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসীর জীবনযাত্রার ব্যাপক উন্নতি হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমি এ কার্যালয়ে নতুন এসেছি। তাই তেমন কোন তথ্য জানা নেই। কারণ সেতুটি তৈরিতে সার্বিক তত্বাবধানে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর