Alexa পাহাড়পুর ও কুসুম্বা মসজিদে ঘোরাঘুরি

পাহাড়পুর ও কুসুম্বা মসজিদে ঘোরাঘুরি

সিদরাতুল সাফায়াত ড্যানিয়েল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৫২ ১৪ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১১:৫৪ ১৪ জুলাই ২০১৯

কুসুম্বা মসজিদ। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কুসুম্বা মসজিদ। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

দুপুর আড়াইটায় পৌঁছে গেলাম নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানায় অবস্থিত পাহাড়পুরে। গরম আর তীব্র রোদের দাবদাহ তখন চরমে। এরমধ্যে দুপুরের খাবার সেরে আমরা মূল ফটক ধরে বৌদ্ধ বিহারের কাছে যাবার জন্য হাঁটতে লাগলাম। বিস্তীর্ণ একটানা সমভূমির মাঝে সুউচ্চ প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ জায়গাটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দূর থেকে বিহার চোখে পড়তেই মনে হল এই তো সেই পাহাড়পুর, যেটির ছবি দেখেছি এতদিন!

জায়গাটি স্থানীয়ভাবে ‘পাহাড়’ নামে পরিচিত। এ ধ্বংসাবশেষের অবস্থান থেকে পাহাড়পুর নামের উৎপত্তি হয়েছে। পাল বংশের রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতাব্দীর শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন। মোট ২৭ একর জমির উপর বিহারটি অবস্থিত। এটি এশিয়ার বৃহত্তম প্রাচীন বৌদ্ধবিহার। এটির আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট। মূল দালানে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। ৮০০ ভিক্ষু বসবাসের উপযোগী ছিল এই বিহার। খননের মাধ্যমে বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসস্তুপ থেকে বাংলার প্রাচীন জনপথ বরেন্দ্র অঞ্চলের শিল্প, শিক্ষা, ধর্ম, অর্থ প্রভৃতি বিষয়ের বহু মূল্যবান সামগ্রী আবিষ্কার হয়েছে। এই উপমহাদেশের প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থায় বিহার ও সংগ্রামকেন্দ্রিক শিক্ষার সূচনায় সোমপুর বিহার অনন্য ভূমিকা রেখেছে।

বাংলার প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গড়ে ওঠা বরেন্দ্র অঞ্চল ছিল জ্ঞানচর্চার পীঠস্থান। আমরা পুরো জায়গা ঘুরে দেখতে লাগলাম। ছবিও তুললাম বেশ কিছু। পাহাড়পুরের মূল বিহারটির উপরে অধ্যাপক ড. সাজিদ বিন দোজা এটির বৈশিষ্ট  বর্ণনা করছিলেন। বুদ্ধের মূর্তি রাখার স্থানটিতে আমরা যখন ফটোসেশন করছি, তখনি মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হল। বিধি বাম, সঙ্গে করে ছাতা নিয়ে গেলেও সবাই আকাশে রোদ দেখে ছাতা বাসে রেখে নেমেছি। উপায়ন্তর না পেয়ে ভিজতে হল। ভেজা শরীরেই রওনা হলাম পরের গন্তব্যে।

পাহাড়পুর

বিকেল ৫টা নাগাদ আমরা নওগাঁর ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদে পৌঁছে গেলাম। প্রায় সাড়ে চারশত বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ। পাঁচ টাকার নোটে এই মসজিদটির ছবি মুদ্রিত আছে। নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অবস্থিত এই মসজিদটি সুলতানি আমলের পুরাকীর্তি। বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের সময়কালে জনৈক সুলায়মান মসজিদটি নির্মাণ করেন।

ইতিহাসবিদদের মতে, সুলায়মান একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। খ্রিষ্টাব্দ ১৫৫৮ সালের দিকে কুসুম্বা মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মসজিদসংলগ্ন উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৭৭ বিঘার একটি বিশাল দিঘি। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা আর চওড়ায় ৪২ ফুট। ছয় ফুট পুরু দেয়াল চারদিকে। দেয়াল ঢেকে দেয়া হয়েছে পাথর দিয়ে। সামনে তিনটি দরজা আছে। চারকোণায় চারটি মিনার ও ছাদে ছয়টি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের দেয়াল পাথুরে কারুকার্যের নকশায় সাজানো। ভেতরে পশ্চিমের দেয়ালে নকশা করা। বাইরের দেয়ালের পাথর অমসৃণ, প্রতিটি অংশে খোদাইয়ের কাজ করা। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছে। ধারণা করা হয়, এই মসজিদে কেবল তৎকালীন সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাই নামাজ পড়তেন।

কুসুম্বা মসজিদে আসর ও মাগরিবের নামাজ পড়ে নিলাম আমরা কয়েকজন। সূর্য ডোবার সময় হতেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি নামল। আবছা অন্ধকারে গুড়ি বৃষ্টিতে কেমন এক ভৌতিক পরিবেশে দীঘিরপাড়ে বসে খানিকক্ষণ আড্ডা চলল। কুসুম্বা মসজিদ পর্ব শেষ করে আমরা রওনা দিলাম রাজশাহীর উদ্দেশ্যে।

জেনে রাখুন

দেশের যেকোনো প্রান্ত হতে নওগাঁ শহরে এসে নওগাঁ বালুডাংগা বাস টার্মিনাল হতে সরাসরি বাসযোগে ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে যাওয়া যায়। আনুমানিক দূরত্ব আনুমানিক ৩২ কিলোমিটার। অথবা দেশের যেকোনো প্রান্ত হতে জয়পুরহাট শহরে এসে বাস অথবা অটোরিকশা নিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার চলে আসতে পারবেন। জয়পুরহাট হতে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের দূরত্ব মাত্র ১৩ কিলোমিটার। ট্রেন যোগে জয়পুরহাটের জামালঞ্জ স্টেশনে নামলে এখান হতে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে আসতে চাইলে আপনাকে ভ্যান অথবা অটোরিকশা নিতে হবে। জামালগঞ্জ হতে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। এছাড়া কুসুম্বা মসজিদে যেতে হলে আপনাকে নওগাঁ–রাজশাহী মহাসড়কের বাসগুলোতে উঠতে হবে। বাসযোগে ৪০ মিনিট সময় লাগবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে

Best Electronics
Best Electronics