পার্ক বাজারে দুর্ভোগের শেষ নেই

পার্ক বাজারে দুর্ভোগের শেষ নেই

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৮ ৫ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইল শহরের প্রধান কাঁচা বাজার নামে খ্যাত পার্ক বাজারের সড়কগুলোর বেহাল দশা। বাজারে আসা ক্রেতা বিক্রেতাদের যেন চরম দুর্ভোগের শেষ নেই।  

পার্কিং এর জায়গা বন্ধ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না করে দোকান তোলায় একটু বৃষ্টি হলেই সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি সড়ক ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। 

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, সড়ক সংস্কারের বিষয়ে পৌর মেয়রকে অবগত করা হয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কার করা হবে। 

টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে শহরের ছয়আনি বাজারের উন্নয়ন কাজের জন্য ১৯৭৭ সালে উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন ওই বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাসানী হলের পাশে টাঙ্গাইল পার্কের তিন একর জায়গায় অস্থায়ীভাবে বসানো হয়। তারপর ছয়আনি বাজারের উন্নয়ন কাজ শেষ হলে সেখানে পুনরায় বাজার চালু হয়।

পার্কে অস্থায়ীভাবে আসা ব্যবসায়ীরা আর সরে না যাওয়ায় এ বাজারটি পার্ক বাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরে পৌরসভা পার্ক বাজারের ইজারা দেয়া শুরু করে। 

১৯৮৯ সালে বাজারটি স্থায়ী বাজার হিসেবে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পায়। বর্তমানে পার্ক বাজারে প্রায় সাত শ’ স্থায়ী দোকান এবং আরো ৩০০ অস্থায়ী দোকান রয়েছে। এত বড় এই বাজারটিতে আজও নির্মাণ হয়নি কোনো নালা। ফলে এখানে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সবসময় কাঁদায় ভরে থাকে পুরো বাজার। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁদার কারণে বাজারের অনেক এলাকাতেই প্রবেশ করা যায় না।

পার্ক বাজারের অদূরেই র‌্যাব-১২ সিপিসি ৩ এর কার্যালয় ও ক্যাম্প, সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম, কেন্দ্রীয় ঈদ গা মাঠ, টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম রয়েছে। 

রোববার সরেজমিনে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের দক্ষিণ ও পূর্বপাশের সড়কসহ প্রত্যেকটি সড়কেই পানি জমে কাঁদা হয়েছে। কাঁদার মধ্যেই ক্রেতারা বাধ্য হচ্ছেন কেনাকাটা করতে। বাজারের বিভিন্ন অংশে পড়ে আছে ময়লা আবর্জনা।

ইমন নামে এক অটোরিকশা চালক জানান, বছরের বেশিরভাগ সময়ে এই বাজারের সড়কে পানি জমে কাঁদার সৃষ্টি হয়। বাজারের মেইন সড়কে মাঝে মধ্যেই অটো রিকশা, ভ্যান উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানান তিনি। 

রফিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, শহরের প্রধান কাঁচা বাজারের সড়কগুলোর বেহাল দশা। বাজারে আসলে শরীরের জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। সড়কগুলো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।  

নাজমুল নামের এক ব্যবসায়ী জানান, মাস শেষ হলেই দোকান ভাড়া দেয়া হলেও বাজারের তেমন উন্নয়ন নেই। অগোছালোভাবে আছে সব। পরিকল্পনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারের উন্নয়নসহ প্রতিটি সড়ক সংস্কারের দাবি জানান তিনি। 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, বাজারের দক্ষিণ ও পূর্বপাশের সড়ক বেশি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাজারের দক্ষিণপাশে গাড়ির পাকিং এর জায়গা দখল করে পরিকল্পনা ছাড়া ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করেই দোকান করে ভাড়া দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

কাগমারা এলাকার গৃহবধূ লাভনী বেগম জানান, এটি সদর উপজেলার প্রধান কাঁচা বাজার। এক জায়গা থেকেই সব পাওয়া যায়। বাজারের সড়কগুলোতে সব সময় কাঁদা থাকায় নারী ক্রেতাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। 

পার্ক বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জোয়াহের আলী জানান, আসলেই সড়কগুলোর বেহাল দশা। সংস্কারের জন্য পৌর মেয়রকে অবগত করা হয়েছে। সড়কগুলো সংস্কার করলে বাজারে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। 

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান জানান, বাজারটি উন্নয়নে পৌরসভার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজারের সড়কটি টেন্ডার হয়ে আছে অতিদ্রুত কাজ ধরা হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে