পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা

পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা

ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা (বরগুনা) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১৬ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

উপকূলীয় এলাকা বরগুনার পাথরঘাটায় পান চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, অপর দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় সুস্বাদু বাংলা পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে উপকূলের চাষিরা।

পূর্ব পুরুষের পেশা হিসেবে এখনো যারা পানের বরজ নিয়ে আছেন তারা জানান, পান চাষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি কোন সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যেকোনো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের সহায়তা করে। তবে পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চাষিদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না বলে তারা অভিযাগ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকে পাথরঘাটার বারই সম্প্রদায়ের কিছু পান চাষি স্থানীয়ভাবে পান চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পান। পরে আমড়াতলা, কালিপুর, কালিবাড়ী ছোনবুনিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে পান চাষে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পর্যায়ক্রমে ওই এলাকার চাষিরা পান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সফলতার মুখও দেখেন। 

তবে বর্তমানে চাষিরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ না থাকায় আগ্রহ হারাচ্ছেন পান চাষে। স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, সরকার কৃষকদের জন্য সারা দেশে বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ করলেও পাথরঘাটায় পান চাষিদের কপালে একশ গ্রাম সার-বীজ ও এক বোতল কীটনাশকও জোটেনি। কালমেঘা ইউপির একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও কোন দিন তাকে পানের ক্ষেতে পাওয়া যায়নি। কৃষি উন্নয়নে নিয়োজিত কর্মকর্তারা যদি পান চাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করতেন, তাহলে চাষিরা আগ্রহ হারাত না। 

তারা আরো জানান, পানের বরজ তৈরি করে লতা লাগিয়ে ভাল ফলন পেলেও সার কীটনাশক ব্যবহারে পানের রোগ ঠেকাতে পারছেন না। রোগবালাই কিংবা সমস্যা দেখা দিলে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা কিংবা ওষুধ বিক্রেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তখন কৃষি বিভাগ থেকে কোনো পরামর্শ পায় না চাষিরা। 

এ বিষয় পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল জানান, পান চাষের ওপর কৃষি বিভাগের পাথরঘাটায় কোনো কার্যক্রম নেই। তবে চাষিদের বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয় বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর