Alexa পানি বাড়তেছে, বাড়িতে থাকার উপায় নেই

পানি বাড়তেছে, বাড়িতে থাকার উপায় নেই

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৫১ ১৫ জুলাই ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে জেলার ৯টি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি জেলার রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় চলছে নদী ভাঙন।

রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে  বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং নুন খাওয়া পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চর এলাকার মিজানুর রহমান জানান, এই চরে যাদের নৌকা আছে তারা জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে উঁচু স্থানে চলে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনের নৌকায় উঁচু জায়গার চলে যাচ্ছে। কিন্তু যাদের নৌকা নেই বিপাকে পড়েছে তারা।

পাঁচগাছী ইউনিয়নের মহির উদ্দিন জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে পেতে ঘরের ভিতর এক কমর পর্যন্ত পানি হয়েছে। ঘরের চৌকি ইট দিয়ে ভাসিয়ে কোন রকমে কষ্ট করে ছিলাম যে পানি কমা শুরু হলে আর অন্যত্র যেতে হবে না। কিন্তু পানি কমার পরিবর্তে শুধু বাড়তেছে। বাড়িতে আর থাকার উপায় নেই।

উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দই খাওয়ার চরের কালু মিয়া জানান, এই চরে আমরা শতাধিক পরিবার বসবাস করছি। সব পরিবাারের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। যাদের নৌকা আছে তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু স্থানে যাচ্ছে আর যাদের নৌকা নেই তার মাচা উঁচু করে গরু ছাগল নিয়ে কষ্টে দিন পার করতেছে। পানি আরো বাড়তে থাকলে এই চরের সব মানুষকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে।

উলিুপর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নটি ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত। এখানে চরাঞ্চলসহ প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী জীবন যাবন করছে। কিছু পরিবার উঁচু সড়কে আশ্রয় নিচ্ছে। সরকারি ভাবে এখনও কোন ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত ডিসি (সার্বিক) হাফিজুর রহমান জানান, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে ২৮০ মেট্রিক টন জিআর চাল, ২হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা রোববার থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়াও নতুন করে ১ হাজার মেট্রিক টন চাল, ২০ লাখ টাকা ও ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বন্যা কবলিত প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলার সব সরকারি দফতরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

Best Electronics
Best Electronics