পানি ছাড়া একাধিক বছর বাঁচতে পারে যেসব প্রাণী

পানি ছাড়া একাধিক বছর বাঁচতে পারে যেসব প্রাণী

মো. হাসানুজ্জামান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০৯ ৩০ মার্চ ২০২০  

ছবি: পানি ছাড়াও বাঁচে এই প্রাণীরা

ছবি: পানি ছাড়াও বাঁচে এই প্রাণীরা

জীবন ধারণের জন্য পানি অপরিহার্য। মানুষ থেকে শুরু করে প্রাণী এমনকি উদ্ভিদ সবারই বেঁচে থাকতে পানির প্রয়োজন। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় একজন মানুষ গড়ে তিন দিন পানি ছাড়া বাঁচতে পারে। 

প্রয়োজনের তাগিদেই শুষ্ক অঞ্চলের প্রাণীরা স্বল্প পানিতে জীবন ধারণের পন্থা আয়ত্ত্ব করেছে। কারণ পানির অভাবে প্রতিনিয়ত তাদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতিতে এমন অনেক বাস্তবতা আছে যা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। বাস্তবেই প্রকৃতিতে এমন কিছু প্রাণী আছে যারা বছরের পর বছর পানি ছাড়া বাঁচতে পারে। এমনই কয়েকটি প্রাণী সম্পর্কে এই লেখা-

ক্যাঙ্গারু র‍্যাট

ক্যাঙ্গারু র‍্যাটমরুভূমিতে বসবাসকারী একটি বিশেষ প্রজাতির প্রাণী এটি। যারা শুষ্ক পরিবেশে সহজেই নিজেদের মানিয়ে নিতে পটু। এমনকি ক্যাঙ্গারু র‍্যাট সারা জীবন পানি গ্রহণ না করে কাটিয়ে দিতে পারে। উত্তর আমেরিকায় এদের দেখা মেলে। ছোট এই প্রাণীটির পেছনের পা দুটি বেশ লম্বা যে কারণে এর নাম ক্যাঙ্গারু র‍্যাট। লম্বা পায়ের সাহায্যে এরা সহজেই দূরে লাফিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে পারে।

এই প্রাণী তার শরীরের অঙ্গসমূহের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। শুষ্ক পরিবেশে মানিয়ে নিতে ক্যাঙ্গারু র‍্যাটের কিডনিগুলো বেশ সহায়তা করে। এদের কিডনিতে অতিরিক্ত টিউব থাকে যা মূত্র থেকে শরীরে পানি সরবরাহ করে। ক্যাঙ্গারু র‍্যাটের মূত্র মানুষের মূত্র থেকে পাঁচ গুণ ঘন হয়। এদের শরীরের চামড়া বেশ তৈলাক্ত যে কারণে ঘেমে শরীর থেকে পানি বের হতে পারে না।

ওয়াটার হোল্ডিং ফ্রগ

ওয়াটার হোল্ডিং ফ্রগঅস্ট্রেলিয়ার মরু অঞ্চলের প্রাণী ওয়াটার হোল্ডিং ফ্রগ। শুষ্ক পরিবেশের প্রাণী হিসেবে এরা বেশ পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে এরা সাধারণ ব্যাঙের মতো জীবন ধারণ করে। তবে এরা শুষ্ক মৌসুমে মাটির গর্তে বসবাস শুরু করে নিজেদের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে সরিয়ে রাখতে।

বর্ষা মৌসুমে এরা চামড়ার মাধ্যমে পানি শোষণ করে শরীরের টিস্যু এবং ব্লাডারে সংরক্ষণ করে রাখে। মাটির গর্তে যেয়ে চামড়ার সাহাস্যে এরা এমন ভাবে গুটি মেরে থাকে যে শরীর থেকে কোনো পানি ক্ষয় হয় না। ব্যাঙটি এই অবস্থায় তার শরীরের চামড়ায় খাবার সরবরাহ করে এবং কয়েক বছর পর্যন্ত এমন পরিস্থিতিতে বাঁচতে পারে।

পশ্চিম আফ্রিকান লাংফিশ

আফ্রিকান লাংফিশপশ্চিম আফ্রিকান লাংফিশ প্রকৃতির একটি বিস্ময়কর সৃষ্টি। লাংফিশকে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ মাছটি প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবীতে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। বিজ্ঞানীরা এই মাছটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলে থাকেন। লাংফিশ এস্টিভেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে যা অনেকটা হাইবারনেশনের মতো।

এই মাছটির আন্যান্য মাছের মতোই ফুলকা আছে। যার সাহায্যে পানি থেকে এরা অক্সিজেন নিতে পারে। আবার এই ফুলকার সঙ্গেই রয়েছে তাদের ফুসফুসও। শুষ্ক মৌসুমে লাংফিশ কাঁদামাটিতে গর্ত করে তার মধ্যে বাস করে। কাঁদা শুকিয়ে গেলেও তারা বাঁচতে পারে। শরীর থেকে স্লেশ্মা জাতীয় পদার্থ বের করে এরা শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখে এবং পেশির টিস্যু থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। এভাবে লাংফিশ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। 

থর্নি ডেভিল

থর্নি ডেভিল  থর্নি ডেভিল অবশ্য থর্নি ড্রাগন নামেও পরিচিত। সেন্ট্রাল অস্ট্রেলিয়ার মরু অঞ্চলে এদের দেখা মেলে। এরা বৃষ্টি পাতের সময় এবং শিশির থেকে পানি সংগ্রহ করে রাখে এদের স্তর বিশিষ্ট শরীরের আঁশ দ্বারা। থর্নি ডেভিলের শরীরের একটি বিশেষ অঙ্গ আছে যেখানে পানি সংরক্ষিত রাখে এবং জিহ্বা নড়াচড়া করে চামড়ার মাধ্যমে এই পানি মুখে আনে। 

মরু কচ্ছপ

মরু কচ্ছপমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম মরুভূমি অঞ্চলে এই কচ্ছপের বসবাস। মেক্সিকোর সোনারান মরুভূমিতেও এদের দেখা মেলে। এদের শরীরের শক্ত আঁশে যথেষ্ট পরিমাণ পানি সংরক্ষণ করতে পারে। বর্ষা মৌসুমে মরু কচ্ছপ শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশন করে শরীরের প্রয়োজন মত পানি ধারণ করে। পানি ছাড়া এই কচ্ছপ এক বছরের অধিক সময় বাঁচতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস